
মোঃ ছাইফুল ইসলাম-(জিহাদ)।
ভোলার লালমোহন উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট, দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসা নেওয়া রোগী ও রোগীর স্বজনদের। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ টি টিউবওয়েল রয়েছে সেখানে সবগুলো’ই নষ্ট। এতে করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফ, রোগী ও রোগীর স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৭ টি পানির ট্যাব বসানো হয়। সেগুলোতেও গত কয়েক মাস ধরে পানি উঠছে না। ফলে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে ভুগতে হচ্ছে স্টাফ, রোগী ও রোগীর স্বজনদের।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালের মধ্যে থাকা সবগুলো টিউবওয়েল ও পানির ট্যাব গুলো নষ্ট রয়েছে। এগুলো নষ্ট থাকায় অনেক দূর থেকে গিয়ে আমাদের পানি আনতে হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই পানির ট্যাব ও টিউবওয়েলগুলো অতি দ্রুত মেরামত করে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগী ও তাদের স্বজনদের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন স্টাফ ও ডাক্তার বলেন, কয়েক মাস ধরে’ই টিউবওয়েল ও পানির ট্যাবগুলোতে পানি উঠছে না। যার ফলে আমাদের ও হাসপাতালের আসা রোগী, রোগীর স্বজনদের ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়। তাই টিউবওয়েল ও পানির ট্যাবগুলো মেরামত করা খুব’ই জরুরি। এছাড়া গত এক সপ্তাহ ধরে জরুরি বিভাগের বেসিনটিতেও পানি পড়ছে না। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ জরুরি বিভাগে দায়িত্বরতরা।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এখানে অনেক কাজ, তবে বেসিনটিতে পানি পড়ছে না। যার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষে অন্য রুম অথবা বাইরে গিয়ে হাত ধুঁতে হচ্ছে দায়িত্বশীলদের।
লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত জুনিয়র মেকানিক্স মোঃ মাহফুজ বলেন, বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ আমাকে প্রয়োজনীয় মালামাল দিলে পানির ট্যাব ও টিউবওয়েলগুলো মেরামত করবো।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা: মো. তৈয়বুর রহমান জানান, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ রয়েছে। তবে টিউবওয়েল ও পানির ট্যাবগুলোতে একটু সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য শিগগির’ই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া জরুরি বিভাগের বেসিনটিতে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন