নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গার্মেন্টস শ্রমিক মাসুদ রানা, যিনি এক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, তার পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে প্রভাবশালী প্রতারক নজরুল ইসলামের কারসাজিতে। একক উপার্জনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা এই পরিবারটি বর্তমানে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাসুদ রানা তার পরিবারকে স্থায়ী ঠিকানা দিতে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে জমি কিনেছিলেন। সেখানে তারা বসতবাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু প্রতারক নজরুল ইসলামের কৌশল ছিল আরও জটিল—জমিটি বিক্রির আগেই তিনি গোপনে ব্যাংকে মর্টগেজ (বন্ধক) রেখে মোটা অংকের ঋণ উত্তোলন করেছিলেন। মাসুদ রানা এ তথ্য জানত না।
এর ফলে, জমি বিক্রির পরও নজরুল ঋণ পরিশোধ না করার কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করার হুশিয়ারি দিয়েছে। এর প্রভাব হিসেবে মাসুদ রানার পরিবারকে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে।
মাসুদ রানা পরিবার শিক্ষানুরাগী ও সংগ্রামী। পরিবারের বড় ছেলে বর্তমানে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী, মেজো ছেলে সম্প্রতি নাটোর এন এস সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ছোট সন্তান মাত্র ৫ বছর বয়সে। বসতভিটা হারিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হওয়ায় তাদের শিক্ষাজীবন আজ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।
অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম হয়বতপুরের স্থানীয় বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, তার রাজনৈতিক প্রভাব বড়—যে দলেরই ক্ষমতা থাকে, সে সেই দলের ক্ষমতাধরদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। এমন প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সে বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাসুদ রানা ইতিমধ্যেই তার বসতভিটা পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত রায় প্রদানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরিবারটি তাদের মাথা গোঁজার স্থান ফিরে পেতে পারে।