ভোলার চরফ্যাশনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও থানার নির্দেশ অমান্য করে গভীর রাতে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে জোরপূর্বক মাটি কেটে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা হান্নান মুন্সি, রুহুল আমিন ও আবুল কালাম মুন্সির বিরুদ্ধে।

বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাজী শাহে আলমের মালিকানাধীন জমিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চরফ্যাশন–দক্ষিণ আইচা আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন শাহে আলম কাজীর ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন ও দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা প্রায় ১২০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওই জমি বেদখলের উদ্দেশ্যে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্তরা ভেকু মেশিন এনে মাটি কেটে পুকুর খনন শুরু করেন।

খবর পেয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় চরফ্যাশন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সব ধরনের কাজ বন্ধ করে দেয়। এ সময় ভেকু চালক দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

ভুক্তভোগী শাহে আলম কাজী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় সালামত উল্লাহ মুন্সি জীবিত থাকাকালে জাল দলিল তৈরি করে জমিটির মালিকানা দাবি করেন। তার মৃত্যুর পর গত ৫ আগস্টের পর থেকে তার দুই ছেলে ও ভাই মিলে জমিটি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, “আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা রাতের অন্ধকারে মাটি কেটে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগেও হান্নান মুন্সি নিজেকে রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে জমির ওপর থাকা একটি টিনশেড ঘর ভাঙচুর করেন এবং ঘরের মালামাল লুট করে নিয়ে যান।

তবে অভিযোগের বিষয়ে হান্নান মুন্সি দাবি করেন, বাউন্ডারির ভেতরে তাদের নিজস্ব জমি রয়েছে এবং সেই জমির মাটিই তারা কেটেছেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে ওই জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}