ভোলার লালমোহনে আমের মুকুলের ঘ্রাণে ভরে উঠেছে আমের বাগানগুলো। আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। আমগাছের সোনালী রঙের মুকুলে প্রকৃতি যেন নিজের খেয়ালে সাজিয়ে রেখেছে। মুকুলগুলো দেখতে যেমন ভালো লাগছে তেমনি মৌমৌ গন্ধে ভরে উঠেছে এলাকাগুলো। এ যেন মধু মাসের আগাম বার্তা দিচ্ছে প্রকৃতি। বাগানে মৌমাছির দল গুনগুন শব্দ করে মুকুলের থেকে মধু সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখা গেছে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার আমের বাগান গুলোতে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন আমের বাগানে ও বাসা বাড়ীতে রোপন করা আম গাছগুলোতে দেখা গিয়েছে পর্যাপ্ত সোনালী মুকুল।
লালমোহনের প্রতিটি বাড়িতে অন্যান্য গাছের সাথে বিচ্ছিন্ন ভাবে রোপন করা আম গাছ রয়েছে অনেক। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর অধিক পরিমানে গাছে মুকুল দেখা দিয়েছে।
বদরপুর ৪নং ওয়ার্ডের মৃধা বাড়ির ছালাউদ্দিন জানান, এই বছর আমের মুকুল অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে এছাড়া নতুন কয়েকটি গাছে মুকুল এসেছে। আশা করছি ভালো আম পাওয়া যাবে।
লালমোহন ইউনিয়নের হাসান বলেন আমাদের বাগানে অন্যান্য গাছের সাথে ছোট বড় প্রায় ৩০টির বেশি আমগাছ রয়েছে। এবছর সবগুলো গাছে পর্যাপ্ত পরিমান আমের মুকুল এসেছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে এবার অনেক আম হবে বলে আশা করছি।
লর্ডহাডিঞ্জ ইউনিয়নের মো. সোহাগ মাস্টার জানান, আমাদের বাড়ির আম গাছগুলোতে মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে। চারিদিকে ছড়াচ্ছে মুকুলের সুবাসিত মৌমৌ গন্ধ। তবে এ বছর মুকুল অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।
লালমোহন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, লালমোহনে এবছর বানিজ্যিক ভাবে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা রয়েছে। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে অন্যান্য গাছের সাথে আমগাছ রয়েছে। আমের জাতের মধ্যে রয়েছে স্থানীয়, আম্রপালি, বারি-৪, ক্যাটিমন ও ব্যানানা জাত।
লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু হাছনাইন জানায়, লালমোহনে সবচেয়ে বেশি পরিমান আমগাছ মানুষের বাড়িতে। মুকুল আসার পরে বাড়ির গাছগুলোর কোনরকম যত্ন না করার কারনে আশানুরুপ আমের গুটি আসেনা। আবার গুটি আসলেও ঝড়ে যায়। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমরা বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছি। আশা করছি কৃষকেরা ভালো ফলন পাবে।
Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}