রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র দুরছড়ি বাজারের দক্ষিণ প্রান্তে একটি ব্রিজের নির্মাণকাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় একদিকে যেমন ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ ক্রেতারা।
খেদারমারা ইউনিয়নে অবস্থিত এই বাজারে প্রায় তিন শতাধিক স্থায়ী দোকান রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫ সহস্রাধিক ক্রেতার সমাগম ঘটে এখানে। কিন্তু বাজারের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বর্তমান ব্রিজটি অত্যন্ত সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ (টেম্পারলেস) হওয়ায় কোনো ভারী যানবাহন বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দূর-দূরান্তের কাস্টমার আসা কমে গেছে, যার ফলে তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বাজার ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, ইতিপূর্বে বাজারে কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও ব্রিজের সমস্যার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সময়মতো বাজারে ঢুকতে পারেনি। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কিত থাকেন স্থানীয়রা।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, বর্ষাকালে পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাফেরা করতে তাদের ভীষণ ভয় লাগে। অভিভাবকদেরও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়।
জানা গেছে, জেলা পরিষদের অর্থায়নে নতুন একটি ব্রিজের টেন্ডার হওয়ার পর পাইলিংয়ের কাজ শেষ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও বাকি কাজ অজ্ঞাত কারণে বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে দুরছড়ি বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ রুবেল হোসেন বলেন,
ব্রিজের বাকি কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জেলা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
বাঘাইছড়ি খেদারমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু বিল্টু চাকমা জানান,
ব্রিজটি এই এলাকার প্রধান সমস্যা, বিশেষ করে বর্ষাকালে ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রথম বাজেটের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্বিতীয় বাজেটের কাজ খুব দ্রুতই শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।”
পরিশেষে, বৃহত্তর বাজারের ঐতিহ্য বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী সমাজ।