প্রায় এক শতাব্দীর অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। ১৯৩০ থেকে ২০২৬, ৯৬ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও সুইডেন। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই।
বিশ্ব ফুটবলের দুই ঐতিহ্যবাহী দল শুরু থেকেই বিশ্বকাপের অংশ হলেও এতদিন কখনোই একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামেনি তারা। ১৯৫৮ সালে সুযোগ তৈরি হলেও ফাইনালে ওঠার পথে ব্যর্থ হওয়ায় সেই সম্ভাবনাও আর বাস্তবে রূপ নেয়নি।
ঐতিহাসিকভাবে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে সুইডেন ফাইনালে উঠলেও ফ্রান্স সেমিফাইনালেই থেমে যায়, যেখানে তারা ব্রাজিলের কাছে ৫-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয়। অন্যদিকে সেই আসরে ব্রাজিল শিরোপা জেতে সুইডেনকে হারিয়েই।
এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের পথ কখনোই এক হয়নি। তবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও বাছাইপর্বে তাদের মুখোমুখি লড়াই হয়েছে একাধিকবার। ১৯৯২ ইউরোতে ১-১ ড্র, ২০১২ ইউরোতে সুইডেনের ২-০ জয় এবং ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উভয় দলের ২-১ ব্যবধানে হোম জয়, সব মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা হয়নি কখনো।
এবারের আসরে ফ্রান্স দাপট দেখিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে তারা করেছে ১০ গোল। অন্যদিকে সুইডেন তৃতীয় সেরা দল হিসেবে কোনোভাবে জায়গা করে নিয়েছে শেষ বত্রিশে।
ম্যাচের আগে ফ্রান্সকে নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন সুইডেনের সাবেক তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো দল দেখছি না যারা ফ্রান্সকে হারাতে পারে। তারা অন্য স্তরের ফুটবল খেলে।’
অন্যদিকে সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটার আশাবাদী হলেও বাস্তবতা স্বীকার করেছেন, বড় দলের বিপক্ষে সুযোগ পেতে হলে নিখুঁত পারফরম্যান্স প্রয়োজন।
ফ্রান্স শিবিরও ম্যাচটিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। কোচ দিদিয়ে দেশঁ খেলোয়াড়দের সতর্ক করেছেন যে সুইডেনের অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত শক্তি তাদের বিপদে ফেলতে পারে।