পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বেপরোয়া ট্রাক্টরের ধাক্কায় খুশি রানী (৮) নামে প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) রাত প্রায় ৮টার দিকে বোদা-পঞ্চগড় মহাসড়কের ময়দানদিঘী হাইওয়ে থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা শিশুটির বাবা ও মা গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত খুশি রানী উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের বান্দেরপাড় গ্রামের কুকিল চন্দ্রের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে কুকিল চন্দ্র স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মোটরসাইকেলে পঞ্চগড় থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। রাত প্রায় ৮টার দিকে ময়দানদিঘী হাইওয়ে থানার সামনে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাক্টর তাদের মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় খুশি রানী মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রাক্টরটির চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয় সে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা কুকিল চন্দ্র কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “পঞ্চগড় থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে একটি ট্রাক্টর আমাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার মেয়েটি ট্রাক্টরের নিচে চলে যায়। চোখের সামনে আমার সন্তানকে হারালাম।”

ময়দানদিঘী হাইওয়ে থানার পুলিশ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানায়, ঘাতক ট্রাক্টরটি আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

একটি বেপরোয়া ট্রাক্টরের ধাক্কায় মুহূর্তেই নিভে গেল একটি নিষ্পাপ প্রাণের প্রদীপ। যে শিশুটি সকালে বই-খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখত, সে আর কোনো দিন ফিরবে না শ্রেণিকক্ষে। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পরিবারটির ওপর নেমে এসেছে অপূরণীয় শোকের ছায়া। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কে ট্রাক্টরসহ ধীরগতির ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে আর কোনো পরিবারকে এভাবে স্বজন হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াতে না হয়।