ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন সাধারণ মানুষের হয়রানির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ঘুষ ছাড়া এখানে কোনো ফাইল নড়ে না বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে অন্যত্র বদলি করা হলেও রহস্যজনকভাবে একই কর্মস্থলে ফিরে আসেন বজলুর রহমান। তার ফিরে আসার পর থেকেই ভূমি সেবা পেতে ঘুষ দেওয়া যেন একটি ‘অলিখিত নিয়মে’ পরিণত হয়েছে।
কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধীনে সাতটি মৌজায় ভূমি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেতে ১০ হাজার টাকার বেশি এবং নামজারি বা নতুন খতিয়ান খুলতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলেই শুরু হয় অসৌজন্যমূলক আচরণ ও দিনের পর দিন হয়রানি। এছাড়াও সরকারি রশিদে খাজনার অংক কম লিখে বিপুল রাজস্ব আত্মসাতের গুঞ্জনও রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জমির মালিকানা নিয়ে কারচুপির ঘটনায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, টবগী ইউনিয়নের দালালপুর মৌজার বিএস ১৯৪৫ নম্বর খতিয়ানে ষোল আনা অংশের রেকর্ডভুক্ত মালিক মিলন মিয়া চৌধুরী অথচ, ওই খতিয়ানে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা বা খাজনা রশিদ ইস্যু করা হয়েছে নাজিমউদ্দীন চৌধুরীর নামে। শুধু তাই নয়, ৬৪ শতাংশ জমির খাজনা হিসেবে মাত্র ১০ টাকা আদায় দেখানো হয়েছে, যা আইন ও বিধিমালার চরম লঙ্ঘন।
নিজের ভুল স্বীকার করে কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন, “এটি আমার ভুল হয়েছে, তবে দাখিলাটি বাতিলের সুযোগ রয়েছে।”
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রণজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, “রেকর্ডভুক্ত মালিক ছাড়া অন্য কারও নামে খাজনা বা দাখিলা দেওয়ার কোনো সুযোগ বা অধিকার কারো নেই। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যেন সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে সরকারি সেবা পেতে পারে।