ভোলার লালমোহনে পাখি মেরে পৌচাশিক আনন্দ উপভোগ করেন লালমোহনের জামাল হাওলাদার নামের এক মুরগীর খামারি। উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড চৌমূহনী বাজার এলাকার পূর্বরমাগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনে জামাল হাওলাদারের মুরগীর খামারে ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় বাবুল চৌকিদার জানান, এখানে জামাল হাওলাদারের কয়েকটি মুরগীর খামার রয়েছে। মুরগীর খামারে পাখি ঢুকে বয়লার খাওয়ার কারণে পাখিগুলোকে মেরে টাঙ্গিয়ে রাখে জামাল হাওলাদার।
চৌমূহনী বাজারের ব্যবসায়ী মাকসুদ জানান, বয়লার খাবার খেতে আসা পাখিগুলোকে মেরে টাঙ্গিয়ে রাখেন জামাল হাওলাদার। এরপর মারা যাওয়ার পর কচুরিওয়ালা পুকুরে ফেলে দেন তিনি। আজকে আমি ঘটনা জানার পর গিয়ে দেখি প্রায় ১৬/১৭টি পাখি মারা গেছে। আর জীবিত আটকিয়ে রেখেছে ২০/২৫টি পাখি। আমরা জীবিত পাখিগুলোকে ছেড়ে দিয়েছি।
ওই এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো কয়েকজন জানান, জামাল হাওলাদার প্রতিদিন মুরগীর খামারে এসে খামারের জাল উঠিয়ে দেয়। জাল উঠানোর পর পাখিগুলো বয়লার খাবার খেতে খামারে প্রবেশ করলে উনি জাল নামিয়ে দেন। এরপর ওনি পাখিগুলোকে পিটিয়ে মেরে পৌচাশিক আনন্দ উপভোগ করে মরা পাখিগুলোকে কখনো মাটিতে পুতে ফেলেন এবং কখনো কচুরিওয়ালা পকুরে ফেলে দেন। পাখিগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ লাল শালিক ও দোয়েল পাখি।
তারা আরো বলেন, দেশে এমনিতেই পাখি শূন্য। তারপরও পাখির প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণ কোন ভাবেই কাম্য নয়। পাখির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের জন্য পরিবশে ও বন্য আইনে ওনার শাস্তি হওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে জামাল হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করার পর রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপকূলীয় বন বিভাগ ভোলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক বেলাল এ ব্যাপারে বলেন, বন্য পাখি মারার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে আমাদের লালমোহনের প্রতিনিধিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলাবো।
Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}