ভোলার মনপুরায় নারী সংক্রান্ত অভিযোগের কথা বলে এক কৃষককে গ্রাম পুলিশের (চৌকিদার) মাধ্যমে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মারধর এবং মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন দুলালের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২টায় মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কৃষক মো. আলাউদ্দিন এ অভিযোগ করেন। এর আগে গত শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজারস্থ বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. আলাউদ্দিন উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলাউদ্দিন বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ফরিদ ও কালাম নামে দুই ব্যক্তি তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। পরে উপজেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার হস্তক্ষেপে সেই বিরোধের সমাধান হয়। কিন্তু পরবর্তীতে নারী সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে তাকে চৌকিদারের মাধ্যমে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন দুলালের নেতৃত্বে তাকে মারধর করা হয় এবং মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন বাজারে ঘুরিয়ে অপমান করা হয়। এ সময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মারধরের কারণে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। চিকিৎসাও নিতে পারিনি। আমার ছেলে কোরআনের হাফেজ। পরিবারের সদস্য ও এলাকার মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারছি না। আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার আর কোনো পথ নেই।” তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা জাকির হোসেন দুলাল বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মনপুরা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাহাত বলেন, “কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। অভিযোগে বর্ণিত ঘটনা সত্য হলে তা নিন্দনীয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। ভুক্তভোগী চাইলে আদালতে আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।” এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডাঃ কামাল উদ্দিন ও উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান মিলন মাতাব্বর জানান, দলীয় অফিসে ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক ও নিন্দনীয়। তারাও এই ঘটনার শাস্তি দাবী করেন।” এ বিষয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}