ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চরমোজাম্মেল চরে ব্লকনেতা আজগর হাওলাদারের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে তজুমদ্দিন প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চরমোজাম্মেল চরের বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। দাবি করা টাকা না দিলে জমিতে চাষাবাদে বাধা, উচ্ছেদের হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চাঁদপুর ইউনিয়নের চরমোজাম্মেল চরে ব্লকনেতা আজগর হাওলাদারের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রায় ৮০ বাট জমি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায় ৩০টি পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করে টাকা না পেয়ে তাদের জমিতে চাষাবাদ বন্ধ করে দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার আজগর হাওলাদার লোকজন নিয়ে কৃষক শরীফের জমিতে জোরপূর্বক পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করতে গেলে শরীফের স্ত্রী কৃষাণী শাহানুর বেগম বাধা দেন। এ সময় তাকে পাওয়ার টিলার দিয়ে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষক নুরনবী বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে তারা চরমোজাম্মেল চরের জঙ্গল পরিষ্কার করে আবাদ শুরু করেন। বর্তমানে ওই খাস জমিতে প্রায় দুই হাজার পরিবারের বসবাস। শুরু থেকেই ব্লকনেতার মাধ্যমে চরটি নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। এখন নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও হয়রানির কারণে অসহায় মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী রহিমা বিবি জানান, পাঁচ বছর আগে ৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে এক বাট জমি নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু প্রতি বছর ব্লকনেতার চাহিদামতো টাকা না দিলে উচ্ছেদের ভয় দেখানো হয়। তারা এই নির্যাতন ও হয়রানি থেকে মুক্তি চান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রায় ১০টি পরিবার ব্লকনেতা আজগর হাওলাদারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং চাঁদাবাজি, মারধর ও হুমকির বিচার দাবি করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ব্লকনেতা আজগর হাওলাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।