‎ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। প্রতিদিন শত শত জেলে ঋণ করে জ্বালানি, বরফ ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে নদীতে মাছ শিকারে গেলেও অধিকাংশই ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

‎জেলেদের অভিযোগ, নদীতে আশানুরূপ ইলিশ না থাকায় মাছ ধরার খরচই উঠছে না। মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে নদীতে গেলেও সেই ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা, প্রতিদিনের বাজার খরচও জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

‎স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি আশানুরূপ নয়। পাশাপাশি নদীর স্রোতের পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবেও মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না।

‎স্থানীয় জেলে সহিদ বলেন, “ঋণ করে নদীতে যাই। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় বাজারের টাকাও ওঠে না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে জীবন পার করছি। এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে গেছে।”

‎মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশ একটি পরিযায়ী মাছ। নদীর পানির স্রোত, লবণাক্ততার পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি এবং আবহাওয়ার প্রভাবে অনেক সময় ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণে পরিবর্তন আসে। ফলে ভরা মৌসুমেও কোনো কোনো এলাকায় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে না। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে মৌসুমের পরবর্তী সময়ে মাছের সরবরাহ বাড়তে পারে।

‎জেলেরা জানান, এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অনেকেই ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হবেন। তাই ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।