সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় যমুনা নদীর তীব্র নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গতকাল রাতে উপজেলার জনতা স্কুল সংলগ্ন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। হঠাৎ শুরু হওয়া এই ভাঙনে মুহূর্তের মধ্যেই ধসে পড়ে বিদ্যালয় ভবনটি, যা স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।

​ভাঙনের এ তাণ্ডবে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী জনতা স্কুল এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় কয়েকশত বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা। স্থানীয় অধিবাসীরা এখন চরম আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। যেকোনো মুহূর্তে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আকুল চেষ্টা চালাচ্ছেন।

​ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যমুনার এই অংশে দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের প্রবণতা রয়েছে। স্থায়ী কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা এলেই এ অঞ্চলের মানুষকে ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হয়। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বালুর বস্তা (জিওব্যাগ) ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ তৈরি না করলে এবং স্থায়ী গাইড বাঁধ নির্মাণ না করা হলে পুরো এলাকাটি মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষাসহ সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন চৌহালীবাসী।