জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে খেলাফত যুব মজলিস। শুক্রবার (৩১ জুলাই) জুমার নামাজের পর আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয়, মহানগর ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচিকে ঘিরে বায়তুল মোকাররম ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণহত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, বিচার কার্যক্রমে কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা জনমনে হতাশা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে আলোচিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দৃশ্যমান হতে হবে। তাদের দাবি, বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য উপায়ে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

সমাবেশ শেষে খেলাফত যুব মজলিসের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে উৎসুক মানুষের উপস্থিতিও দেখা যায়।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। তবে পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

কর্মসূচিতে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন। তারা জুলাই গণহত্যার ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

খেলাফত যুব মজলিসের নেতারা বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তারা জনগণকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মভিত্তিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে।