ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা এলাকায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (পরিচয় গোপন রাখা হলো) স্কুলের টিফিন বিরতির সময় ফুসলিয়ে কলাবাগানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।এ ঘটনায় তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্থানীয় পদ্মামনসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার ভাই মো. রুবেল বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ওই ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ২৬ জুলাই দুপুরে স্কুলের টিফিন বিরতির সময় বাড়িতে খাবার খেতে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত জিহাদ জরুরি কথা বলার কথা বলে তাকে কৌশলে পাশের একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে আগে থেকেই আরও চার কিশোর অবস্থান করছিল। ভুক্তভোগী পরিস্থিতি বুঝে চিৎকার করার চেষ্টা করলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একজন তার মুখ চেপে ধরে চারজনও পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অভিযুক্তদের একজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনা জানায় ভুক্তভোগী। এরপর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে রাহাত (১৭), জিহাদ (১৭), রহিম (১৭), জিসান (১৬) ও ইমন (১৭)-কে। তারা সবাই বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা এলাকার বাসিন্দা।

মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাহাত, জিসান ও ইমনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। অপর দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যেহেতু অভিযুক্তরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত শিশু আইন অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}