উন্নয়নকাজে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী ও সদর উপজেলা প্রশাসন। খাল পুনঃখনন ও খননকাজ সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত প্রায় ১৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সাশ্রয়ী ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও খালপাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনে উদ্যোগের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ও প্রশংসা পেয়েছেন।
জানা গেছে, আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বাকডোকরা খাল খনন প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা। নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ৯ লাখ ৩৯ হাজার ১৯১ টাকা অব্যয়িত থাকে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রীপা মনি দেবীর তত্ত্বাবধানে ওই অর্থ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার রজলী টাংগন ব্রিজ থেকে রজলীপাড়া পর্যন্ত ৬৩০ মিটার খাল পুনঃখনন এবং এর সঙ্গে ৬০ মিটার নতুন সংযোগ খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়ন ও ইউএনও ফাহমিদা সুলতানার সার্বিক তত্ত্বাবধানে মোট ৬৯০ মিটার খালের কাজ শেষ করার পর প্রকল্পের অব্যয়িত ৩ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়। এ প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৩৮ লাখ টাকা।
সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার এই দৃষ্টান্তের পাশাপাশি খালপাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনেও উদ্যোগ নিয়েছে আটোয়ারী উপজেলা প্রশাসন। বাকডোকরা খালের দুই পাশে সবুজ ঘাস লাগানোর উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রীপা মনি দেবী জানান, গত ৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের ৮৪ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি তিনিও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বাকডোকরা খাল খনন প্রকল্পের দুই পাশে সবুজ ঘাস লাগানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। ভবিষ্যতের এ ধরনের খাল খনন প্রকল্পে সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অব্যয়িত অর্থ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, এ কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পাওয়া নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। এ ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে যেতে উৎসাহ জোগাবে।
সরকারি অর্থের প্রতিটি কণাকে জনগণের আমানত হিসেবে বিবেচনা করে উন্নয়নকাজে তার সঠিক ব্যবহার এবং কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।