গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শনিবার সকালে এক স্কুলের পরিচালকের বসত-বাড়িতে হামলা ও বাউন্ডারি দেয়ালসহ আসবাবপত্র ভাংচুরের অভিযোগে পাওয়া গেছে। এসময় তার বড় ছেলের সামনে অস্ত্র ধরে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাটের অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবারের।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের মেদীআশুলাই এলাকায় শনিবার সকালে স্কুল পরিচালক হারুন অর রশিদের বসত-বাড়িতে এ হামলা ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে কালিয়াকৈর সৃষ্টি ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক হারুন অর রশিদ সঙ্গে তার ভাই শফিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম গংদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। কিন্তু সকালে ওই স্কুল পরিচালক হারুন তার স্ত্রী-সন্তানদের বাড়িতে রেখে কালিয়াকৈর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। তিনি বেড়িয়ে যাওয়ার পর-পরই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার দুই ভাই শফিকুল ও শহিদুলের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক কুড়াল, হাতুর, দাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বসত-বাড়িতে হামলা চালায়। তারা হামলা চালিয়ে বাড়ির বাউন্ডারি দেয়াল ভাংচুর করে। এসময় তারা ওই স্কুল পরিচালকের ৯/১০ বছরের বড় ছেলে আল ইয়াসা সরকারের গলায় অস্ত্র ধরে ঘরের ভেতরে আসবাবপত্র ভেঙ্গে কয়েক লক্ষ টাকা, ১০ ভড়ি স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাট চালায় হামলাকারীরা। পরে তাদের ডাক চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এতে ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ওই স্কুল পরিচালক হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
ওই স্কুল পরিচালক হারুন অর রশিদ জানান, আমি বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই শফিকুল ও শহিদুলের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী আমার বাড়িতে হামলা করে। বাড়ির ভেতরে ঢুকে বাউন্ডারি দেয়ালসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এসময় হামলাকারীরা আমার ছেলের গলায় অস্ত্র ধরে স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনেরসহ জমানো টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করে। ওই স্কুল পরিচালকের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার জানান, ওরা আমাদের এখানে থাকতে দেবে না, বাড়িঘর রেখে আমাদের চলে যেতে বলে। এতো গুলো সন্ত্রাসী লোক হামলা চালিয়ে ভাংচুর চালায়। এসময় বাঁধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা আমাদের ছেলের সামনে অস্ত্র ধরে তাকে জিম্মি করে ফেলে। তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমার ১০ ভড়ি স্বর্ণালংকারসহ কয়েক লক্ষ টাকা লুটপাট করে।
অভিযুক্তদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম জানান, বাড়ির জমি নিয়ে অনেক বার শালিস বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ থানাতেও এমন বৈঠক হয়। সেখানেও তিন ভাইয়ে ৫ শতাংশ করে জমি নিবো সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে বন্টননামা দলিলের কথা হলেও তিনি গড়িমসি করতেছেন। এ জন্য আমরা উনার বাউন্ডারির কয়েকটি ইট খুলেছিলাম। তবে লুটপাটের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে আমরা তিনভাই যেন মিলেমিশে থাকতে পারি, সেই সমাধান চাই।
এব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাসুদ জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}