গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাও রয়েছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। এতে কোথাও কোথাও শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার বিভিন্ন বাসাবাড়ির আঙিনা, নির্মাণাধীন ভবন, নিচু জায়গা ও ড্রেনে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলা এবং ড্রেন পরিষ্কারে বিলম্বের কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে। এসব স্থানে এডিস মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মশা নিধনে পৌরসভার পক্ষ থেকে ওষুধ ছিটানো ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। তারা প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ফগিং কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড চালুর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে জনগণকে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাসাবাড়ি, ফুলের টব, ছাদ ও অন্যান্য স্থানে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই সমন্বিত মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা না হলে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।