যশোরের শারশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে সরকারি সারের ডিলারশিপ এক সাবেক সক্রিয় আওয়ামী লীগ কর্মীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে চরম অসন্তোষ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিগত ১৭ বছর সুবিধা ভোগ করা আওয়ামী পরিবারের সদস্যকে রাতারাতি ‘বিএনপি’ সাজিয়ে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউনিয়নের ডুবপাড়া গ্রামের মো. বাবর আলীর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম এবং তার বাবা দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। এমনকি শফিকুলের বাবা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা ছিলেন বলেও নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।
ঐতিহাসিক ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুথানের কিছুদিন আগে স্থানীয় সাংবাদিক আবুল হোসেনের সাথে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন শফিকুল। ওই ঘটনায় সাংবাদিক আবুল হোসেন তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে, কৌশলী শফিকুল ওই মামলাকে ‘রাজনৈতিক মামলা’ হিসেবে প্রচার করে নিজেকে বিএনপির নির্যাতনের শিকার কর্মী বলে দাবি করতে শুরু করেন।
তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বিগত ১৭ বছরে বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের কোনো মিছিল, মিটিং কিংবা দলীয় কর্মসূচিতে শফিকুলকে কখনো দেখা যায়নি। এমনকি ৫ই আগস্টের পরেও বিএনপির কোনো সভা-সমাবেশ বা কার্যক্রমে তার ন্যূনতম উপস্থিতি ছিল না।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন অসাধু নেতাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ম্যানেজ করেন শফিকুল। এর মাধ্যমে তিনি নিজের মালিকানাধীন ‘মেসার্স আরাফাত গ্রীন ফার্ম’-এর অনুকূলে টিসিবি (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ)-র খাদ্যসামগ্রী বিক্রয়ের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেন।
টিসিবির ডিলারশিপ পেয়েই খান্ত হননি শফিকুল; এবার বিএডিসি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের ইউনিয়নভিত্তিক সরকারি সারের ডিলারশিপের তালিকাতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারের এই ডিলারশিপটি পুরোপুরি নিজের নামে নিশ্চিত করতে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার লেনদেনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
সার ডিলারশিপের তালিকায় আওয়ামী পরিবারের নাম কীভাবে এলো—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা বলেন , “তালিকাটি তৈরি করেছেন ইউনিয়নের প্রশাসক ও বিআরডিবি অফিসার জনাব সাকের উদ্দিন। আমি তাকে বিতর্কিত ব্যক্তির নাম থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি দায়সারা উত্তর দিয়ে বলেন—’কে আওয়ামী লীগ আর কে বিএনপি, তা কি কারও শরীরে লেখা আছে?’”

তবে ইউনিয়ন প্রশাসক ও বিআরডিবি অফিসার জনাব সাকের উদ্দিনের দাবি ভিন্ন। তিনি বলেন, “নিয়ম না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে আমি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবি ভাইয়ের সাথে কথা বলেছিলাম। তিনি আমাকে সব ঠিক আছে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। শফিকুল যে ইতোমধ্যেই টিসিবির ডিলার কিংবা সে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিল—এ তথ্যগুলো আমি জানিনা।
একই আওয়ামী কর্মী ও পরিবারের সদস্য কীভাবে সরকারি দুটি গুরুত্বপূর্ণ ডিলারশিপ একা দখল করে নেয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, রাজপথের নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করে সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের এই চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিলারশিপ আবেদনকারী মো. শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলা হলে তিনি আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কোনোদিন আওয়ামী লীগ করিনি। এত হিসাব-নিকাশ আমি বুঝি না। সরকারি নিয়ম মেনে ইউনিয়ন থেকে আমার প্রতিষ্ঠানের নাম পাঠানো হয়েছে।”

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}