ভোলার মনপুরায় ফকিরহাট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রোববার বেলা ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাজিরহাট-সাকুচিয়া সড়কের ফকিরহাট দাখিল মাদ্রাসার সামনের সড়কে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তা ও শিক্ষার্থীরা জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর হাজিরহাটে মনপুরা মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমান নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আহমেদের ওপর এক হামলার ঘটনা ঘটে। জানা যায়, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ঘটনার জের ধরে ওই কর্মচারীর সাথেই তার বিরোধ ও হামলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু পরবর্তীতে অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আহমেদ পূর্বশত্রুতার জেরে ফকিরহাট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সিহাব উদ্দিনসহ মোট ৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বলে, “গত ২০ তারিখে হাজিরহাটে শিক্ষকের ওপর হামলায় আমাদের সুপার হুজুর কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। সামাজিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন ও সম্মানহানি করতে পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত এই ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।”
প্রতিবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করে অত্র মাদ্রাসার সভাপতি হোসেন হাওলাদার বলেন, “সুপার সাহেবের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো। আমি অনতিবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সামসুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, “অধ্যক্ষ সাহেব তার সাবেক কর্মচারীর সাথে যে অন্যায় করেছিলেন, এটি তারই পরিণতি। মূল ঘটনাটি ঘটেছিল ওই অধ্যক্ষ ও তার সাবেক কর্মচারীর মধ্যে। সেখানে আমাদের মাদ্রাসার সুপার মহোদয়কে টেনে এনে আসামি করার ঘটনাটি নিন্দনীয়। আমরা এই ষড়ন্ত্রমূলক মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি করছি।”