কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ও ঝাউদিয়া বাজারে বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলারদের মনগড়া কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ সারের কারবারে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
আইলচারা বাজারে বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলার মেসার্স মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে উঠেছে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তা গোপনে কালোবাজারে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ।
মূল ডিলার নির্ধারিত সাব-ডিলারদের সরকারি বরাদ্দের সার না দিয়ে কৌশলে নামমাত্র দিচ্ছেন। ভুক্তভোগী সাব-ডিলার মো. হাবিবুর রহমান, রেজোয়ান আলী এবং হাজী মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন জানান, তারা ২ নম্বর ওয়ার্ডে সার বিক্রির অনুমোদনপ্রাপ্ত হলেও মূল ডিলার তাদের মাত্র সামান্য কয়েক বস্তা সার দিচ্ছেন। এমনকি মনোয়ার হোসেনের দোকানে সরকারি মূল্য তালিকা ঝুলানো থাকলেও তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
অন্যদিকে ঝাউদিয়া বাজারের চিত্র আরও আশঙ্কাজনক। সেখানকার প্রধান ডিলার মেসার্স আব্দুল লতিফ ট্রডার্স-এর সত্ত্বাধিকারী আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধেও একই কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজ আওতাধীন সাব-ডিলারদের প্রয়োজনীয় সার না দিয়ে মূল বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ফলে ঝাউদিয়া বাজারে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে একাধিক অনুমোদনহীন দোকান। এসব দোকানের কোনো ডিলারশিপ না থাকলেও ডিলারের যোগসাজশে তাদের গুদামে রয়েছে বস্তা বস্তা সার, যা খোলাখুলিভাবে অতিরিক্ত চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামের কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা জানান, কৃষকরা বাকিতে সার কেনেন বলেই প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি রাখা হয়।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুপালী খাতুনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন অতি দ্রুত বিষয়টি নজরদারিতে এনে দোষীদের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দেখা যায়নি এমন কোন অভিযান বা আইননক ব্যবস্থা নিতে।
দুই বাজারের প্রধান ডিলারদের এমন কারচুপির কারণে প্রান্তিক কৃষকেরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে চড়া দামে সার কিনতে গিয়ে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে আইলচারা ও ঝাউদিয়া বাজারের এই সারের নৈরাজ্য বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ ও দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার মনিটরিংক করে কৃষকদের ন্যায্য মূল্যের সার দেয়ার পদক্ষেপ নিতে দাবি জানান।