ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁও শহরের কলেজপাড়ার আদিবাসী মৃত দানিয়াল তিরকির ছেলে শ্যালোমেশিন মেকার স্টিফান তিরকির হত্যাকান্ডের ২ ঘন্টার মধ্যেই রহস্য উন্মোচন ও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুই জনকে গ্রেফতার ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে পুলিশ।

রোববার (২০ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার পরিষদপাড়ার ফ্রান্সসিস টপ্পোর ছেলে গাব্রীয়েল ওরফে গাবে টপ্পো (৩০) ও মৃত সিলিউস টপ্পোর ছেলে জুলিয়ান টপ্পো (৩৮)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানা যায়, স্টিফান তিরকি নামে এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়। ওই অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎস জানান গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হওয়ায় ওই ব্যক্তির শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পরে এঘটনায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পুলিশের ৪টি টিম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনসহ প্রকৃত অপরাধীকে সনাক্তের জন্য কাজ শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, স্টিফান তিরকির সাথে পার্শ্ববর্তী গাব্রীয়েল ওরফে গাবে টপ্পো ও জুলিয়ান টপ্পোর সাথে জমি দখলের চুক্তির টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল।

ঘটনার দিন ১৮ আগস্ট রাত ৯ টার দিকে শহরের রবির ড্রাইভারের বাড়ির সামেন রাস্তায় স্টিফান তিরকির সাথে গাব্রীয়েলের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে স্টিফান তিরকির কাছে থাকা স্ক্রু ড্রাইভার গাব্রীয়েল কেড়ে নিয়ে সজোরে স্টিফান তিরকির বুকে আঘাত করে। আঘাত প্রাপ্ত স্টিফান তিরকিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে ঘাতক গাব্রীয়েল স্ক্রু ড্রাইভারটি ঘটনাস্থলের পাশে এক ময়লার ড্রেনে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় স্টিফান তিরকিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জানান নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

পরে অভিযান চালিয়ে ঘাতক গাব্রীয়েল ও জুলিয়ান টপ্পোকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গাব্রীয়েল ওরফে গাবে টপ্পো হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত বলে স্বীকার করেন এবং আটকের সময় ঘাতক গাব্রীয়েলের গায়ে পরিহিত ছেঁড়া টি শার্ট যা স্টিফান তিরকির সাথে ধস্থাধস্থিতে ছিঁড়ে যায় ও রক্তাক্ত লুঙ্গি জব্দ করা হয়। পরে তার দেখানোমতে হত্যায় ব্যবহৃত স্ক্রু ডাইভার ঘটনাস্থলে পাশে এক ময়লার ড্রেন হতে উদ্ধার করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার।

ঘটনায় মৃত স্টিফান তিরকির স্ত্রী ভেরনিকা খালকো গত ১৯ আগস্ট বাদী হয়ে সদর থানায় গাব্রীয়েল ও জুলিয়ান টপ্পোসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা করেন। রোববার গ্রেফতারকৃত দুই জনকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে জেলা অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রমেশ কুমার ডাগা আসামীদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}