ভোলা প্রতিনিধিঃ
ভোলার লালমোহনে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ২৫ কেজির স্থলে দেয়া হচ্ছে ১০ থেকে ২০কেজি।
সোমবার (২১ অক্টোবর) উপজেলার চরভূতা ইউনিয়ন পরিষদে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ চিত্র দেখা গেছে। এদিকে চাল বিতরণকালের ছবি তুলতে গুদামে ঢুকে দেখা যায়, ‘পরিমাপ ছাড়াই বালতি দিয়ে চাল দেয়া হচ্ছে। সেই ছবি তুলতে গেলে ক্ষেপে যান ওই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস কালাম সরকার।
চাল নিয়ে বের হওয়া হাবিবুল্যাহ, জয়নাল ও রুহুল আমিনসহ একাধিক জেলেরা জানান, সকাল থেকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। জনপ্রতি ২৫ কেজি করে দেয়ার কথা থাকলেও আমরা ১০/১৫ কেজি করে পেয়েছি।
এদিকে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের নিচের গুদাম থেকে চাল বিতরণ করা হলেও সেখানে নেই ট্যাগ অফিসার ও সচিব। তারা পরিষদের দ্বিতীয়তলায় বসে আছেন।
জানতে চাইলে চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার ও পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন বলেন, সকাল থেকে কয়েকজন কে ১০কেজি করে দেয়া হয়েছিল। এ নিয়ে জেলেদের মাঝে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বিশৃঙ্খলার কারনে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছিনা।
চরভূতা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জওহরলাল দাস বলেন, এখানে বিএনপি নেতা ও প্যানেল চেয়ারম্যান ইলিয়াস কালাম সরকার চাল বিতরণ করছেন। আমরা দা-ছেনি, টেটার ভয়ে নিচে যাচ্ছিনা। গত বৃহস্পতিবারেও চাল বিতরনের প্রথম দিনে স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপ লোকাল অস্ত্র নিয়ে মহরা দেয়ায় চৌকিদাররা নিরাপত্তার জন্য আমাদেরকে একটি রুমে বসিয়ে রেখেছিল। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করতে পারছিনা। বিষয়টি নৌবাহিনীসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চাল বিতরণে অনিয়ম ও সাংবাদিকরা বিতরণের ছবি তুলতে কেনো অনুমতি লাগবে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চরভূতা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ইলিয়াস কালাম সরকার বলেন, আমি ছবি তুলতে কাউকে নিষেধ করিনি। চাল কম দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, চাল কম দেয়া হয় না। তবে কিছু ভিক্ষুক এসেছিলো চাল নিতে। তাদেরকে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছি।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে এমন অবস্থা যে, কার্ডধারি নয় এমন জেলেরা এসেও চালের জন্য দাড়ায়। কিন্তু সবাইকেতো দেয়া যাচ্ছে না। চাল কম দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যাথানিয়মে চাল বিতরন করার জন্য প্যানেল চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়েছি।

উল্লেখ্য, চরভূতা ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ১৫১০জন। এরমধ্যে বরাদ্দ পেয়েছেন সমুদ্রগামী ২৫০ ও মা ইলিশ সংরক্ষণে ৯৪০জন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}