বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র প্রভাবে ভোলার অন্তত ২৫টি গ্রাম জোয়ার ও প্রবল বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্বল বাঁধ, টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর জলোচ্ছ্বাসে বাড়ি-ঘর, হাটবাজার ও কৃষিজমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভেসে গেছে গৃহপালিত পশুও। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়া ও অবিরাম বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। জোয়ারের পানি বেড়ে ভেঙে পড়ে একাধিক বেড়িবাঁধ—এর ফলে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর, পশ্চিম ও পূর্ব ইলিশা, কাঁচিয়া, দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ও চরপাতা, তজুমদ্দিন, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন, মনপুরা, চর কুকরি-মুকরি, ঢালচর ও চর জহিরউদ্দিনসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
বিকেলে অতিরিক্ত জোয়ারের চাপে তজুমদ্দিন উপজেলার নির্মাণাধীন স্লুইসগেট, বোরহানউদ্দিনের হাকিমুদ্দিন বেড়িবাঁধ ও লালমোহনের মঙ্গল শিকদার বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে অনেক এলাকা পাঁচ ফুট পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। নদীর ঢেউয়ের আঘাতে তজুমদ্দিনের রিং বাঁধের ১০ মিটার ধসে পড়ে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পানির প্রবল চাপ এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পানি দ্রুত সরছে না। রাতের জোয়ারে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় ভোলায় ৮৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্র, ১৪টি মাটির কেল্লা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মাঠে রয়েছে সিপিপি ও রেড ক্রিসেন্টের প্রায় ১৩,৮০০ স্বেচ্ছাসেবক ও ৯৭টি মেডিকেল টিম। সব সরকারি কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য ও চাল মজুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।
ভোলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এখনো ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।
এদিকে, গতকাল বন্ধ থাকলেও আজ শুক্রবার সকালে পুনরায় চালু হয়েছে ভোলার লঞ্চ ও ফেরি চলাচল। যাত্রী ও যানবাহনবাহী দুটি ফেরি—‘সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ ভোলায় পৌঁছেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “তজুমদ্দিনের শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জোয়ারের পানি সরাসরি খালে চলে যাওয়ায় বড় বিপর্যয় থেকে বেঁচে গেছি। তবে রাতে একই অবস্থা হলে বড় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।”
উপকূলজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।