ভোলার তজুমদ্দিনে চাঁদা না পেয়ে স্বামীকে বেঁধে রেখে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তিন নেতার নাম আসায় ছাত্রদল ও শ্রমিকদল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে এই বহিষ্কার নিয়ে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার পর অপমান ও মানসিক চাপে তার প্রথম স্ত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা নেন। পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায় এবং বাদী সাতজনের নামসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।

তজুমদ্দিন থানার ওসি মোহাব্বত খান জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিনকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে বিএনপি। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিও তজুমদ্দিন কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাসেল ও যুগ্ম আহ্বায়ক সজীবকে বহিষ্কার করেছে। যদিও বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ষণের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি।

তবে স্থানীয় নেতারা দাবি করছেন, এজাহারে নাম থাকা রাসেল প্রকৃত ছাত্রদল নেতা নন এবং পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ওসি মোহাব্বত খান বলেন, “আমাদের কাছে অপরাধই মুখ্য। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, অপরাধের প্রমাণ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন—ন্যায়বিচার পাবে কি প্রকৃত ভুক্তভোগীরা, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবে চাপা পড়বে সত্য?