
ভোলার লালমোহন উপজেলার পূর্ব চর ছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, প্রতারণা ও স্বাক্ষর জাল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তার একাধিক কল রেকর্ড ফাঁসের পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৭ ডিসেম্বর দৈনিক ভোরের ডাক ও আলোকিত বরিশাল পত্রিকায় সহকারী গ্রন্থকার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উক্ত মাদ্রাসা। বিজ্ঞপ্তি দেখে প্রার্থী মোঃ হেলাল উদ্দিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। তবে মাদ্রাসার প্রশাসনিক কাগজপত্রে জটিলতা থাকায় নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হয়।
পরে হেলাল উদ্দিন আদালতের দ্বারস্থ হন এবং আদালত তার পক্ষে রায় দেন। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে চলমান।
এ অবস্থায় অভিযোগ ওঠে, সুপার মাওলানা কামাল হোসেন সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে অন্য এক ব্যক্তিকে “ব্যাক ডেট” দিয়ে অবৈধভাবে সহকারী গ্রন্থকার পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, “মামলা চলমান থাকা অবস্থায় সুপার কামাল হোসেন বেআইনি উপায়ে স্বাক্ষর জাল করে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন। এটি স্পষ্ট প্রতারণা এবং আইনের প্রতি চরম অবমাননা।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর সুপারের একাধিক কল রেকর্ড ফাঁস হয়েছে, যেখানে নিয়োগ বাণিজ্য ও লেনদেনসংক্রান্ত আলাপচারিতার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, “একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্নীতি ও প্রতারণা নৈতিক অবক্ষয়ের দৃষ্টান্ত। কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
উল্লেখ্য, ফাঁস হওয়া কল রেকর্ডের অডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন