অপরাধ

মনপুরায় আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে হামের প্রকোপ, সেবা দিতে হিমশিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

  admin ১৮ জুলাই ২০২৬ , ৮:৪০ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

৩৫২

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন নতুন রোগী আসায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

​মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড পুরুষ ওয়ার্ড ও সাধারণ ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে ও কোনো বেড খালি নেই। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে কার্যত চালু আছে ৩১ শয্যা হঠাৎ রোগীর চাপ বাড়ায় নিরুপায় হয়ে রোগীরা হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চাদর বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বড় একটি অংশই হলো শিশু। তীব্র জ্বর, চোখ লাল হওয়া এবং সারা শরীরে লালচে গুটি বা র‍্যাশ নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসছেন।

​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মনপুরার মূল ভূখণ্ড ছাড়াও চারপাশের বিভিন্ন দুর্গম চরাঞ্চল যেমন— চর কলাতলী, কাজির চর, ডাল চর থেকে ট্রলারে করে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন নতুন হামের রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। হঠাৎ করে রোগীর এই মহামারি সদৃশ চাপের কারণে জনবল সংকটে থাকা হাসপাতালের স্টাফরা দিনরাত কাজ করেও সেবা দিতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।

​হাসপাতালের মেঝেতে সন্তানকে নিয়ে শুয়ে থাকা কাজির চরের এক অভিভাবক জানান, ”

চর থেকে অনেক কষ্ট করে ট্রলারে করে বাচ্চারে লইয়া আইছি। হাসপাতালে আইসা দেহি কোনো সিট খালি নাই।

রোগী এত বেশি যে কোন ভাবে সিটের ব্যবস্থা করতে পারিনাই । বাধ্য হইয়া মেঝেতেই থাহন লাগতাছে।”

​মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ( আর এম ও) ডাক্তার আশিকুর রহমান অনিক জানান, আউটডোরে আমরা প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশত রোগী দেখি যার মধ্যে অধিকাংশ রোগী শিশু ঠান্ডা, জ্বর ও হাম উপসর্গ নিয়ে আসে ” গড়ে প্রতিদিন ১০/১৫ জন হামের রুগি হাসপাতালে ভর্তী হয়ে সেবা নিচ্ছে এবং তারা সেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। তবে মাঝে মধ্যে ২/১ জন রুগিকে আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলাতে বা ঢাকায় পাঠাই।

আমাদের যে সীমিত জনবল আছে, তা দিয়েই আমরা এই বিপুল পরিমাণ রোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ওষুধের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা চরাঞ্চলগুলোতে বিশেষ নজর দিচ্ছি।

​দুর্গম এই উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে হাম যেহেতু একটি ছোয়াছেঁ রোগ অভিবাবকদের সচেতন ভিত্তিতে বিশেষ ক্যাম্পেইন ও টিকাদান ক্যাম্পেইন জোরদার করা এবং হাসপাতালে অস্থায়ী শয্যা ও অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Facebook Comments Box