
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শিব চতুর্দশী মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলাটি ঘিরে সীতাকুণ্ডের মঠ-মন্দির ও পাহাড়ী এলাকায় এখন উৎসবের আমেজ।
আজ রোববার সকাল থেকে মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সীতাকুণ্ড শংকর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ মেলার উদ্বোধন করেন। বিকেল ৫টা ৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড থেকে শিব চতুর্দশী তিথি শুরু হয়েছে, যা আগামীকাল সোমবার বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
তিন দিনব্যাপী এই মেলা চলবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত। তবে মূল ভিড় থাকবে আজ রাতে এবং আগামীকাল ভোরে।
পুণ্যার্থীরা সাধারণত পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ব্যাসকুণ্ডে স্নান ও তর্পণ করে তাদের যাত্রা শুরু করেন। এরপর তারা প্রায় ১২০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢালতে দুর্গম পাহাড়ী পথ পাড়ি দেন। এছাড়াও যাত্রাপথে বিরূপাক্ষ মন্দিরসহ প্রায় ৫০টি মঠ-মন্দির পরিক্রমা করেন ভক্তরা।
মেলা প্রাঙ্গণ ও পাহাড়ী পথে পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
এবারের মেলায় প্রথম দিনে তীর্থযাত্রীদের উপস্থিতি অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকদের মতে, প্রধান তিথি আগামীকাল হওয়ায় এবং সম্প্রতি নির্বাচন বা রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে শুরুতে ভিড় কম হতে পারে, তবে মূল তিথিতে ১০ থেকে ১৫ লাখ পুণ্যার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাশ বলেন, আনুমানিক কয়েক’শ বছর ধরে শিব চতুর্দশী তিথির একদিন আগে পুর্ণ্যার্থীদর আগমন ঘিরে শিব চতুর্দশী মেলা শুরু হয় এবং তিথি শেষ হবার পর মেলাও শেষ হয়। সে হিসেবে এবার তিন শিব চতুর্দশী মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এ মেলায় পাহাড় চূড়া থেকে সমতল ভূমির সাড়ে তিন কি.মি. এলাকায় দেশ-বিদেশের ১৫-২০ লাখ ভক্তের আগমন হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটি মেলার ধর্মীয় আয়োজন সম্পূর্ণ করেছে। নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এবারের মেলা নিরাপদ হবে এমন আশা করছেন তিনি।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন