ভোলা দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় এক যুবদল নেতাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। ১৫ আগস্ট রাত ১২টার দিকে মনপুরা উপজেলা হাসপাতালের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত যুবদল নেতার নাম আলাউদ্দিন। তিনি উপজেলার হাজিরহাট বাজারের একজন মোবাইল ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ মাহমুদ সৈকত ও মেহেদী হাসানের ছবি এবং ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তাদের সম্পৃক্ততার নানা তথ্য ফেসবুকে প্রকাশ করেন আলাউদ্দিন। একই সাথে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী পালনের ছবি ও একটি চাঁদাবাজি মামলার কপির তথ্যও ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে সোহাগ মাহমুদ সৈকত আরটিভির মনপুরা প্রতিনিধি এবং মেহেদী হাসান চ্যানেল ভোলার মনপুরা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
ঘটনার দিন (১৫ আগস্ট) ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নে মহিষের ঘাস লগ্নির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আব্দুল খালেক নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য নিতে যান এই দুই সাংবাদিক। সেখানে ভিডিও ধারণ ও কথা কাটাকাটির জেরে তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে খালেক ও তার ভাই যুবদল নেতা আলাউদ্দিন তাদের ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ছবি ও প্রমাণ অনলাইনে পোস্ট করেন। এই পোস্টকে কেন্দ্র করেই গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে হাসপাতাল মোড়ে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র আলাউদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আলাউদ্দিন মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনের আমলে একাধিকবার মার খেয়েছি এবং ব্যবসায়িকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছি। দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও তাদের অপকর্ম তুলে ধরে যদি এখনও তাদের হাতেই মার খেতে হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।” এ বিষয়ে তিনি ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আলমের (অথবা স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব মো. নূর ইসলাম নয়ন) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মনপুরা উপজেলা যুবদলের সভাপতি সামসুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, “বর্তমানে আমাদের সরকারের আমলে (বা বিএনপি সমর্থিত শক্তির সময়ে) দলের কর্মীরা ফ্যাসিস্টের দোসরদের হাতে মার খাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বৈরাচার ক্ষমতাচ্যুত হলেও তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। যারা তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এই বিষয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন