বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকা ৬ জেলেকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা গোমতি’, যা বর্তমানে গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, গত রবিবার পায়রা সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় একটি ট্রলার বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারটিতে মোট ১১ জন মাঝিমাল্লা ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ৬ জন জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের রেজাউল হাওলাদার (৪৫), তার ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৯), পানপট্টি ইউনিয়নের হাসান মিয়া (৪০), এমদাদ (৩০) এবং সদর ইউনিয়নের পাক্কিয়া গ্রামের আসলাম (২২)। অপর একজন নিখোঁজ জেলের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অপরদিকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ট্রলারের মালিক এমদাদুল সিকদার (৩৮), নাজমুল (২২), সাকিব (২১), বায়েজিদ (২২) ও রাকিব (২১)। তাদের মধ্যে এমদাদুল সিকদার ও রাকিব অসুস্থ হয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ট্রলারডুবির ঘটনায় ট্রলারের মালিকের বাবা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে ৬ জন নিখোঁজ এবং ৫ জনকে জীবিত উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
গলাচিপা উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে উদ্ধার হওয়া দুজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরুজা হক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে টানা তিন দিন পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ ৬ জেলের কোনো সন্ধান না মেলায় তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও আহাজারি বাড়ছে। স্বজনরা দ্রুত উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে প্রিয়জনদের সন্ধান পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছেন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন