ঢাকা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল বোটসহ ১৬ জেলেকে উদ্ধার করল নৌবাহিনী Logo বরিশাল-ভোলা সংযোগ: উন্নয়নের প্রত্যাশা নাকি অগ্রাধিকারের সংকট? Logo মনপুরায় জেলের জালে ১৬ কেজির কোড়াল, নিলামে বিক্রি ২৪ হাজার টাকায় Logo লালমোহনে অবৈধ সিগারেট ও রোলিং পেপার জব্দ, গোডাউন মালিকদের নিয়ে প্রশ্ন Logo স্বামীর ধারালো অস্রের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম, হাসপাতালে স্ত্রী Logo রূপগঞ্জে পাঠাও কর্মীকে আটকে রেখে মারধর, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই Logo মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপদেষ্টা: সরকারের আকার বাড়লেই কি বাড়ে সক্ষমতা? Logo নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯ Logo সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

লালমোহনে সেচ প্রকল্প দখলের অভিযোগ, ৫০ একর জমির ধান রোপণে ব্যাঘাতের শঙ্কায় কৃষকেরা

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৪৩৫

ভোলার লালমোহন উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সেচ প্রকল্প জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লেজছকিনা এলাকার একতা বাজার সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সেচ প্রকল্পের মালিক মো. ইউসুফ। তিনি ওই এলাকার বেপারী বাড়ির মো. মোফাজ্জল হোসেনর ছেলে। সেচ প্রকল্প দখলের কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কৃষকদের ধান ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ধান আবাদে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
অভিযোগ করে সেচ প্রকল্পের মালিক মো. ইউসুফ জানান, আমি ২০০১ সাল থেকে এখানে সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় চাষিদের জমিতে ন্যায্যমূল্যে পানি দিয়ে আসছি। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সেচ প্রকল্প থেকে আমাদের লাইসেন্স প্রদান করা হয়। তবে গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই স্থানীয় মো. নাগর মাতাব্বরের নেতৃত্বে তার ছেলেরা জোরপূর্বক সেচ প্রকল্পের পাম্পের ঘরের ভেতর থেকে আমাকে বের করে দিয়ে চাবি নিয়ে তারা দখল করে নেন। যার কারণে আমি ঘরটি খুলতে না পেরে পানি সেচ দিতে পারছি না।
তিনি আরো জানান, ঘটনাটি আমি স্থানীয় অনেককেই জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে কোনো ফয়সালা না পেয়ে ন্যায় বিচার পেতে লালমোহন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। দ্রুত যদি আমার সেচ প্রকল্পটি চালুর ব্যবস্থা করা না হয় তাহলে দুইশত কৃষকের অন্তত ৫০ একর জমির ধান রোপণে ব্যাঘাত ঘটবে। তাই আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত আমার সেচ প্রকল্পটি দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করে আমাকে বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।
আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, মো. এরশাদ ও মো. মোস্তফাসহ আরো কয়েকজন কৃষক বলেন, এতদিন ইউসুফের নেতৃত্বে এই সেচ প্রকল্প চলেছে। এই সেচ প্রকল্পের আওতায় ৫০ একরের বেশি জমি রয়েছে। হঠাৎ নির্বাচনের পরে নাগর মাতাব্বর এটি জোরপূর্বব দখল করেন। এখন আমরা জমিতে ঠিকমতো পানি পাচ্ছি না। এজন্য আমাদের ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই। তা না হলে আমাদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হবে।
সেচ প্রকল্প দখলের ব্যাপারে মো. নাগর মাতাব্বর বলেন, ২০০১ সালে আমি ও ইউসুফের ভাই আইয়ুব আলী মিলে এই সেচপ্রকল্প শুরু করি। এরপর যৌথভাবে প্রকল্পটি আমরা পরিচালনা করি। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউসুফ সেচ প্রকল্পটি তার দখলে নিয়ে যায়। এখন আমাদের সময় এসেছে। তাই আমরা সেচ প্রকল্পটি দখল করেছি।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১০:৫১:১৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৭৪ বার পড়া হয়েছে
Logo
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

লালমোহনে সেচ প্রকল্প দখলের অভিযোগ, ৫০ একর জমির ধান রোপণে ব্যাঘাতের শঙ্কায় কৃষকেরা

আপডেট সময় : ১০:৫১:১৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৪৩৫

ভোলার লালমোহন উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সেচ প্রকল্প জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লেজছকিনা এলাকার একতা বাজার সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সেচ প্রকল্পের মালিক মো. ইউসুফ। তিনি ওই এলাকার বেপারী বাড়ির মো. মোফাজ্জল হোসেনর ছেলে। সেচ প্রকল্প দখলের কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কৃষকদের ধান ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ধান আবাদে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
অভিযোগ করে সেচ প্রকল্পের মালিক মো. ইউসুফ জানান, আমি ২০০১ সাল থেকে এখানে সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় চাষিদের জমিতে ন্যায্যমূল্যে পানি দিয়ে আসছি। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সেচ প্রকল্প থেকে আমাদের লাইসেন্স প্রদান করা হয়। তবে গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই স্থানীয় মো. নাগর মাতাব্বরের নেতৃত্বে তার ছেলেরা জোরপূর্বক সেচ প্রকল্পের পাম্পের ঘরের ভেতর থেকে আমাকে বের করে দিয়ে চাবি নিয়ে তারা দখল করে নেন। যার কারণে আমি ঘরটি খুলতে না পেরে পানি সেচ দিতে পারছি না।
তিনি আরো জানান, ঘটনাটি আমি স্থানীয় অনেককেই জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে কোনো ফয়সালা না পেয়ে ন্যায় বিচার পেতে লালমোহন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। দ্রুত যদি আমার সেচ প্রকল্পটি চালুর ব্যবস্থা করা না হয় তাহলে দুইশত কৃষকের অন্তত ৫০ একর জমির ধান রোপণে ব্যাঘাত ঘটবে। তাই আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত আমার সেচ প্রকল্পটি দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করে আমাকে বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।
আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, মো. এরশাদ ও মো. মোস্তফাসহ আরো কয়েকজন কৃষক বলেন, এতদিন ইউসুফের নেতৃত্বে এই সেচ প্রকল্প চলেছে। এই সেচ প্রকল্পের আওতায় ৫০ একরের বেশি জমি রয়েছে। হঠাৎ নির্বাচনের পরে নাগর মাতাব্বর এটি জোরপূর্বব দখল করেন। এখন আমরা জমিতে ঠিকমতো পানি পাচ্ছি না। এজন্য আমাদের ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই। তা না হলে আমাদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হবে।
সেচ প্রকল্প দখলের ব্যাপারে মো. নাগর মাতাব্বর বলেন, ২০০১ সালে আমি ও ইউসুফের ভাই আইয়ুব আলী মিলে এই সেচপ্রকল্প শুরু করি। এরপর যৌথভাবে প্রকল্পটি আমরা পরিচালনা করি। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউসুফ সেচ প্রকল্পটি তার দখলে নিয়ে যায়। এখন আমাদের সময় এসেছে। তাই আমরা সেচ প্রকল্পটি দখল করেছি।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box