ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ধান খেতের পাশে Logo অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু Logo অধ্যক্ষের ওপর হামলা মনপুরায় মাদ্রাসার সুপারসহ যুবদল-স্বেচ্ছাসেবকদলের আট নেতার বিরুদ্ধে মামলা Logo লক্ষ্মীপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি কবরস্থান দখলের অভিযোগ Logo ঝাড়ফুঁকের কথা বলে শিশুকে ধর্ষণ, জামায়াতের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার Logo আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ, ওসি প্রত্যাহার Logo ভোলার ধনিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী বেলাল হোসেনের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo মনপুরায় মসজিদের ভিতর এক শিক্ষককে মারধর ও রক্তাক্ত করার অভিযোগ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের নিন্দা Logo ভূরুঙ্গামারীতে প্রতিবন্ধী স্কুল নিয়ে নানা অভিযোগ Logo দৌলতখানে স্কুল কমিটির সভাপতি হতে না পেরে শিক্ষককে মারধর, থানায় লিখিত অভিযোগ

ভিটেবাড়ি বিক্রি, এখন সন্তানদের নিয়ে অন্যের বারান্দায় রাজিয়া বেগমের মানবেতর জীবন

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৪৬৮

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এক অসহায় পরিবার রাজিয়া বেগম বয়স (৩৫) ৪০উর্দু তার স্বামী মোঃ মোছলেউদ্দিন দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে চরম দুঃসহ ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নেই নিজেদের কোনো জমি, নেই মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর। বাধ্য হয়ে অন্যের ঘরের বারান্দায় সন্তানদের নিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের।
চরফ্যাশন থেকে সহকর্মী তছলিম আখন জানিয়েছেন, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বর্তমানে খোদেজা বাগ ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভুট্টু মিয়ার বসতঘরের পেছনের একটি বারান্দায় সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাত নামলেই সন্তানদের নিয়ে কোথায় মাথা গুঁজবেন সেই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় তাকে। অনেক সময় বিভিন্ন মানুষের কটু কথা সহ্য করেও সামান্য একটু জায়গায় রাত কাটাতে হয় এই পরিবারটিকে।
রাজিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার স্বামী মোছলেউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না তিনি। একসময় তাদের নিজের জমি ও বসতভিটা ছিল। কিন্তু সংসারের অভাব আর স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে বাধ্য হয়ে সেই পৈতৃক ভিটেবাড়ি বিক্রি করে দেন। এরপর থেকেই শুরু হয় তাদের দুর্বিষহ জীবন।
তিনি আরও বলেন, “তার দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটান। নিজের একটা ঘর থাকলে অন্তত সন্তানদের নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারতেন। মানুষের কটু কথা শুনতে হতো না।”
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন, “সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। খুব দ্রুত ঘটনাটি সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। পরিবারটি যদি প্রকৃতপক্ষে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত হয়ে থাকে, তাহলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে তাদের জন্য মানবিক সহায়তার ব্যবস্থাও করার চেষ্টা করা হবে।”
রাজিয়া বেগমের দাবি, অতীতে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও তাদের ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। এখন কোনো উপায় না দেখে সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং প্রবাসীদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, কোনো মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে আবারও হয়তো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন তিনি ও তার পরিবার।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:০০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ৩০৮ বার পড়া হয়েছে
Logo
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

ভিটেবাড়ি বিক্রি, এখন সন্তানদের নিয়ে অন্যের বারান্দায় রাজিয়া বেগমের মানবেতর জীবন

আপডেট সময় : ০৮:২২:০০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
৪৬৮

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এক অসহায় পরিবার রাজিয়া বেগম বয়স (৩৫) ৪০উর্দু তার স্বামী মোঃ মোছলেউদ্দিন দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে চরম দুঃসহ ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নেই নিজেদের কোনো জমি, নেই মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর। বাধ্য হয়ে অন্যের ঘরের বারান্দায় সন্তানদের নিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের।
চরফ্যাশন থেকে সহকর্মী তছলিম আখন জানিয়েছেন, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বর্তমানে খোদেজা বাগ ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভুট্টু মিয়ার বসতঘরের পেছনের একটি বারান্দায় সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাত নামলেই সন্তানদের নিয়ে কোথায় মাথা গুঁজবেন সেই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় তাকে। অনেক সময় বিভিন্ন মানুষের কটু কথা সহ্য করেও সামান্য একটু জায়গায় রাত কাটাতে হয় এই পরিবারটিকে।
রাজিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার স্বামী মোছলেউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না তিনি। একসময় তাদের নিজের জমি ও বসতভিটা ছিল। কিন্তু সংসারের অভাব আর স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে বাধ্য হয়ে সেই পৈতৃক ভিটেবাড়ি বিক্রি করে দেন। এরপর থেকেই শুরু হয় তাদের দুর্বিষহ জীবন।
তিনি আরও বলেন, “তার দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটান। নিজের একটা ঘর থাকলে অন্তত সন্তানদের নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারতেন। মানুষের কটু কথা শুনতে হতো না।”
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন, “সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। খুব দ্রুত ঘটনাটি সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। পরিবারটি যদি প্রকৃতপক্ষে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত হয়ে থাকে, তাহলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে তাদের জন্য মানবিক সহায়তার ব্যবস্থাও করার চেষ্টা করা হবে।”
রাজিয়া বেগমের দাবি, অতীতে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও তাদের ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। এখন কোনো উপায় না দেখে সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং প্রবাসীদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, কোনো মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে আবারও হয়তো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন তিনি ও তার পরিবার।

Facebook Comments Box