কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে ভুয়া কাগজপত্র ও অনিয়মের অভিযোগ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র, ভুয়া পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি এবং নীতিমালা বহির্ভূতভাবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম তদন্ত ও সরেজমিন পরিদর্শনের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. শারমীন জাহান ও তাঁর স্বামী মো. জাহিদুল ইসলাম (পলাশ)-এর বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়টি প্রকৃতপক্ষে ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত না হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কাগজপত্রে ২০০৭ সালকে প্রতিষ্ঠার বছর হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে ২০০৭ সালের প্রকৃত ও সমসাময়িক প্রমাণাদি যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া নীতিমালা অনুসরণ না করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পত্রিকা বিজ্ঞপ্তির সত্যতা যাচাই, নিয়োগ কমিটি ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কাগজপত্রে অসঙ্গতি এবং বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন ও অনুমোদনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের নামে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বৈধ নিবন্ধন রয়েছে কি না এবং নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রে প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি বিদ্যালয়ে প্রকৃত প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও ধরন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রয়োজনীয় সহায়ক যন্ত্রপাতি, শিক্ষা উপকরণ ও খেলার সামগ্রীসহ বিভিন্ন বিষয় সরেজমিনে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ও মনিটরিং-ভিত্তিক কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন ও দাখিল করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, মূল রেজিস্ট্রেশন ও অনুমোদন, নিয়োগ কমিটির কাগজপত্র, পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগপত্র, যোগদানপত্রসহ অন্যান্য নথি যাচাই করে বিদ্যালয়টির বিষয়ে নিরপেক্ষ ও সঠিক পরিদর্শন প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।



















