মনপুরা মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজ
অধ্যক্ষের অন্যায় কাজে অস্বীকৃতি জানায় চাকুরীচ্যুত তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সেলিম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের পর চাকরী পুনর্বহালের আকুতি
ভোলার মনপুরায় মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিনের বাড়িতে কাজ না করায় চাকুরীচ্যুত করার অভিযোগ তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী ( এমএলএস) সেলিমের।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে চাকরি পুনর্বহালের দাবী করেন ভুক্তভোগী সেলিম।
ভুক্তভোগী সেলিম লিখিত বক্তব্যে জানান, কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন ২০০২ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছর যাবত তিনি অফিস সহায়ক (এমএলএস) পদে চাকরি করতেন ও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করতেন। এই সময় অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন তাকে দিয়ে কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি জোরপূর্বক তার ব্যক্তিগত গৃহস্থালি কাজ করাতেন। এমনকি অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে কলেজের প্রভাষক সহ বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে অসৎ আচরণের নির্দেশ দিতেন।
অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন সাহেবের ওই সমস্ত অন্যায়, অনৈতিক ও ব্যক্তিগত কাজে অসম্মতি জানালে তিনি আমার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হন।
ভুক্তভোগী সেলিম জানান, কলেজ কমিটির সভাপতি ও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শাহাজান মিয়া ও অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন মিয়া যোগসাজশে অবৈধভাবে ও বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশ অমান্য করে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। পরে অধ্যক্ষ কলেজ কমিটির সভাপতির ভাতিজাকে তার পদে নিয়োগ দেন।
পরে তিনি বিষয়টি বরিশাল শিক্ষবোর্ড ও ইউএনও এর নিকট অভিযোগ দেন। পরে শিক্ষাবোর্ড ও ইউএনও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অধ্যক্ষ মহিউদ্দিনকে আমাকে কলেজে বেকন-ভাতাসহ স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান, শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশ অমান্য করে অধ্যক্ষ সাহেব ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর সাময়িক বরখাস্ত করে চিঠি দেন। তিনি বরখাস্তের চিঠিতে আমাকে নৈশ প্রহরী হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে অধ্যক্ষ ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট চুড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়।
ভুক্তভোগী সেলিম দাবী করেন, তিনি কলেজে ২০০২ সালের ১ সেপ্টেম্বর এমএলএস পদে যোগদান করেন। পরে ২০০৪ সালে ১ নভেম্বর এমএলএস পদে এমপিও হয়। যার ইনডেক্স নং-৩০০৯০৪৫। পরে তিনি ২০২২ সাল পর্যন্ত এমএলএস পদে চাকরী করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। তিনি নৈশ প্রহরী হিসাবে কখন প্রতিষ্ঠানে কর্মরকত ছিলেন না।
পরে তিনি অবৈধভাবে চাকরীচ্যুত করায় অধ্যক্ষের বিচার ও সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে চাকরী পুনর্বহাল করার দাবী করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম নয়নের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জানা যায়, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন এই ঘটনার পর ২০২৪ সালে কলেজ থেকে পদত্যাগ করে ভোলার নাজিউর রহমান ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদান করেন। এরপর কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্বপালন করছেন সহকারি অধ্যাপক মোঃ মাহবুবুল আলম শাহীন।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত তখনকার মনোয়ারা বেগম কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাবেক আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক একেএম শাহজাহান মিয়া আত্নগোপনে থাকায় ও মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত ও তৎকালীন মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও বর্তমান ভোলা নাজিউর রহমান ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন জানান, নৈশ প্রহরী সেলিম দায়িত্ব পালন না করায় তাকে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে।
এমএলএস সেলিমকে অবৈধভাবে চাকরীচ্যুতের বিষয় তিনি জানান, এমএলএস পদে নয় সেলিম নৈশ প্রহরী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। বিধি মোতাবেক তাকে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুবুল আলম শাহীন বলেন, সাবেক অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত রোষানলে পড়ে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে এমএলএস সেলিমের।
তিনি আরও জানান, তখন ওই পদে তাৎক্ষণিকভাবে আরেকজনকে নিয়োগ প্রদান করে গেছেন সাবেক অধ্যক্ষ। বর্তমানে ওই পদ খালি নেই। আইনি প্রক্রিয়ায় পুনরায় উল্লেখিত পদে ফিরে আসার কোন উপায় আছে কিনা তা ভুক্তভোগী ব্যক্তিই বলতে পারবেন।















