নিবন্ধন, প্রতিষ্ঠার সাল ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন; তদন্তের দাবি
ভূরুঙ্গামারীতে প্রতিবন্ধী স্কুল নিয়ে নানা অভিযোগ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেছড়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম স্কুল নিয়ে নিবন্ধন, প্রতিষ্ঠার সাল, জনবল নিয়োগ ও জমির মালিকানা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯ মে ২০২৬ তারিখের স্মারক নং-৪১.০০.০০০০.০৩৫.১৮.১৮.২০২৩/১০৬ অনুযায়ী বিদ্যালয়টির পরিদর্শন চলাকালে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।
অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভূরুঙ্গামারী এবং কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়টির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। কম্পিউটারে তৈরি বিজ্ঞপ্তি ব্যবহার, মনগড়াভাবে জনবল নিয়োগ, ভুয়া নিয়োগপত্র এবং নিয়োগ কমিটি গঠনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন
বিদ্যালয়টির নিবন্ধন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ‘কাশিম বাজার স্বাস্থ্য সংস্থা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৬৯৭/১১ ব্যবহার করা হচ্ছে। সংগঠনটির ঠিকানা বলদিয়া ইউনিয়নের কাশিম বাজার এলাকায়। অন্যদিকে বিদ্যালয়টি পাইকেছড়া ইউনিয়নে অবস্থিত।
তাদের প্রশ্ন, একটি ইউনিয়নে অবস্থিত সংগঠনের নিবন্ধন অন্য ইউনিয়নে পরিচালিত বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিদ্যালয়টির নিজস্ব নিবন্ধন আছে কি না, থাকলে কোন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এবং কোন নথির ভিত্তিতে তা দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন তারা।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ‘প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০১৯’ প্রকাশিত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর প্রতিষ্ঠা, স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইন আবেদন ব্যবস্থাও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠার সাল নিয়েও অসঙ্গতির অভিযোগ
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার সাল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়টির কার্যক্রম বাস্তবে ২০১৭ সালে শুরু হলেও বিভিন্ন নথিতে প্রতিষ্ঠার সাল ২০০৬ দেখানো হয়েছে।
তাদের প্রশ্ন, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সাল ২০০৬ কীভাবে নথিভুক্ত হলো। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠাকালীন নথি, অনুমোদনপত্র, জমির কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জমির মালিকের অভিযোগ
বিদ্যালয়ের জমির মালিক শহিদুল ইসলাম ব্যাপারি, পিতা—মৃত নেখাত উদ্দিন ব্যাপারি অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার স্বামী জাহিদুল ইসলাম পলাশ ২০১৭ সালে তার জমির ওপর জোরপূর্বক বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
তবে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান ও দখলসংক্রান্ত নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
২০১৯ সালের নির্দেশনা পালন নিয়েও প্রশ্ন
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে পাঁচ মিনিটের ভিডিও ধারণের কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও পাইকেছড়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম স্কুলে তা যথাযথভাবে করা হয়নি।
এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ওই সময়ের ভিডিও, উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, অনুমোদন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
তারা বিদ্যালয়টির নিবন্ধন নম্বর, প্রতিষ্ঠার সাল, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটির কার্যবিবরণী, নিয়োগপত্র, জমির মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।



















