হামের টিকা ক্যাম্পেইনেও ভোলায় নীরবতা, প্রশ্নের মুখে সিভিল সার্জন
সারাদেশে বাদ পড়া শিশুদের হাম–রুবেলা টিকার আওতায় আনতে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হলেও ভোলায় তার দৃশ্যমান কার্যক্রম নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, কোথায় টিকাদান কেন্দ্র চালু হয়েছে বা কীভাবে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে—এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না।
সরকার দেশব্যাপী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম–রুবেলার টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে। কিন্তু ভোলা সদর উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কেন্দ্রের উদ্বোধন বা প্রচারণা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে তথ্য জানতে একাধিকবার ভোলা সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
এদিকে জেলায় হামের সংক্রমণও উদ্বেগজনক। চলতি সপ্তাহে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ৩০০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। বর্তমানে হাসপাতালটিতে প্রায় ৭০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা. মনিরুল ইসলাম ভোলার সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলার স্বাস্থ্যসেবায় নানা অব্যবস্থাপনা বেড়েছে। বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। সম্প্রতি বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের মারধর ও চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গেটের ভেতর ও বাইরের ফুটপাত দখল করে দোকান বসিয়ে মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব দোকানের কারণে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. মনিরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





















