ঢাকা ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ধান খেতের পাশে Logo অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু Logo অধ্যক্ষের ওপর হামলা মনপুরায় মাদ্রাসার সুপারসহ যুবদল-স্বেচ্ছাসেবকদলের আট নেতার বিরুদ্ধে মামলা Logo লক্ষ্মীপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি কবরস্থান দখলের অভিযোগ Logo ঝাড়ফুঁকের কথা বলে শিশুকে ধর্ষণ, জামায়াতের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার Logo আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ, ওসি প্রত্যাহার Logo ভোলার ধনিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী বেলাল হোসেনের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo মনপুরায় মসজিদের ভিতর এক শিক্ষককে মারধর ও রক্তাক্ত করার অভিযোগ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের নিন্দা Logo ভূরুঙ্গামারীতে প্রতিবন্ধী স্কুল নিয়ে নানা অভিযোগ Logo দৌলতখানে স্কুল কমিটির সভাপতি হতে না পেরে শিক্ষককে মারধর, থানায় লিখিত অভিযোগ

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী রশি শিল্প।

মোঃ সিফাত হোসেন জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী।
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৪২

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের সরকারী লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পার্শ্বে পায়রা নদীর তীর ঘেঁষে পরিত্যক্ত সরকারি সিএন্ডবি রাস্তার দু’পাশে বসবাস করেন একসময়ের ঐতিহ্যবাহী রশি শিল্পের কারিগররা।
এখন আর আগেকার দিনের মত নেই জমজমাট রশি তৈরির কর্মজজ্ঞ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় কলকারখানার দাপট, মূলধন ও শ্রমিক সংকট এবং পায়রার অব্যাহত ভাঙনে বার বার বসতভিটা স্হানান্তরের কারনে এখানকার নিপুণ হাতে রশি তৈরির কারিগররা বাপ-দাদার পুরানো পেশা ধরে রেখেছে। একসময় শতাধিক পরিবার রশি তৈরির কাজে জড়িত ছিল। কালের আবর্তে বর্তমানে কিছু কিছু কারিগররা প্রতিযোগিতা মূলক পেশায় টিকে থাকতে না পেরে অন্যত্র চলে গেছে অথবা এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রশি শিল্পী এগারোটি পরিবার কাজ করছে এবং চটের ব্যবসায় জড়িত আছে সাতটি পরিবার। রশি প্রস্তুতকারী সেলিম খন্দকার, শাহ আলম হাওলাদার, গোবিন্দ দাস, সুধীর মালাকার, বেবি আক্তার ও প্রতিবন্ধী রামদাসহ এগারটি পরিবার এখনো তাদের এ পুরাতন পেশায় আছেন।
এখানকার একজন বয়স্ক রশি কারিগর জয়নাল গাজী বলেন, পায়রা নদীর ভাঙ্গনে বসত ভিটা হারিয়ে বর্তমানে সরকারি পরিত্যক্ত সিএন্ডবি রাস্তার পাশে এসে ঠাঁই নিয়ে পুঁজির অভাবে কোন রকম টিকে আছি।
অপর এক কারিগর সেলিম খন্দকার বলেন, এখন আর এ পেশায় আগের মত ব্যবসা নাই। রশি তৈরীর কাঁচামাল ক্রয়, মূলধনের অভাব, শ্রমিক সংকট ও আধুনিক মেশিনের কারণে তারা প্রতিযোগিতায় হেরে যাচ্ছেন।
শাহ আলম হাওলাদার জানান, পূর্বে চট্টগ্রাম থেকে রশি তৈরির জন্য পুরান চট ও সাইন জাল কম মূল্যে করে আনা হতো। বর্তমানে ঢাকা থেকে চড়া মূল্যে ক্রয় করতে হচ্ছে।
গোবিন্দ চন্দ্র দাস বলেন, প্রতি কেজি পুরানো চট বর্তমানে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় এবং পুরান সাইন জাল ১৫ থেকে ২০টাকায় ক্রয় করা হয়।যাতায়াত খরচ, শ্রমিক ও প্রস্তুত খরচ বাবদ আরো খরচ হয় ১০ টাকা। প্রতি কেজি রশি বর্তমানে গড়ে পাইকারি বিক্রি করা হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকা।
প্রতিবন্ধী রাম দাস বলেন ৫০ বছর যাবত এ পেশায় আছি। রশি তৈরি করে ৫ ছেলে সহ ৭ জনের পরিবার কোনরকম জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় টিকে আছি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহায়তা পেলে আমরা আবার এ পেশাকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হব।
কালের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত স্হানীয় লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ঐতিহ্যবাহী লেবুখালী পুরান বাজার এলাকার রশি শিল্প একসময় দক্ষিণাঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সমাদর ছিল। বর্তমানে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে হারাতে বসেছে এ শিল্প। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহায়তা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সম্ভাবনাময় এ রশি শিল্প।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৫৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৭৫ বার পড়া হয়েছে
Logo
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী রশি শিল্প।

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৫৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
২৪২

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের সরকারী লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পার্শ্বে পায়রা নদীর তীর ঘেঁষে পরিত্যক্ত সরকারি সিএন্ডবি রাস্তার দু’পাশে বসবাস করেন একসময়ের ঐতিহ্যবাহী রশি শিল্পের কারিগররা।
এখন আর আগেকার দিনের মত নেই জমজমাট রশি তৈরির কর্মজজ্ঞ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় কলকারখানার দাপট, মূলধন ও শ্রমিক সংকট এবং পায়রার অব্যাহত ভাঙনে বার বার বসতভিটা স্হানান্তরের কারনে এখানকার নিপুণ হাতে রশি তৈরির কারিগররা বাপ-দাদার পুরানো পেশা ধরে রেখেছে। একসময় শতাধিক পরিবার রশি তৈরির কাজে জড়িত ছিল। কালের আবর্তে বর্তমানে কিছু কিছু কারিগররা প্রতিযোগিতা মূলক পেশায় টিকে থাকতে না পেরে অন্যত্র চলে গেছে অথবা এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রশি শিল্পী এগারোটি পরিবার কাজ করছে এবং চটের ব্যবসায় জড়িত আছে সাতটি পরিবার। রশি প্রস্তুতকারী সেলিম খন্দকার, শাহ আলম হাওলাদার, গোবিন্দ দাস, সুধীর মালাকার, বেবি আক্তার ও প্রতিবন্ধী রামদাসহ এগারটি পরিবার এখনো তাদের এ পুরাতন পেশায় আছেন।
এখানকার একজন বয়স্ক রশি কারিগর জয়নাল গাজী বলেন, পায়রা নদীর ভাঙ্গনে বসত ভিটা হারিয়ে বর্তমানে সরকারি পরিত্যক্ত সিএন্ডবি রাস্তার পাশে এসে ঠাঁই নিয়ে পুঁজির অভাবে কোন রকম টিকে আছি।
অপর এক কারিগর সেলিম খন্দকার বলেন, এখন আর এ পেশায় আগের মত ব্যবসা নাই। রশি তৈরীর কাঁচামাল ক্রয়, মূলধনের অভাব, শ্রমিক সংকট ও আধুনিক মেশিনের কারণে তারা প্রতিযোগিতায় হেরে যাচ্ছেন।
শাহ আলম হাওলাদার জানান, পূর্বে চট্টগ্রাম থেকে রশি তৈরির জন্য পুরান চট ও সাইন জাল কম মূল্যে করে আনা হতো। বর্তমানে ঢাকা থেকে চড়া মূল্যে ক্রয় করতে হচ্ছে।
গোবিন্দ চন্দ্র দাস বলেন, প্রতি কেজি পুরানো চট বর্তমানে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় এবং পুরান সাইন জাল ১৫ থেকে ২০টাকায় ক্রয় করা হয়।যাতায়াত খরচ, শ্রমিক ও প্রস্তুত খরচ বাবদ আরো খরচ হয় ১০ টাকা। প্রতি কেজি রশি বর্তমানে গড়ে পাইকারি বিক্রি করা হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকা।
প্রতিবন্ধী রাম দাস বলেন ৫০ বছর যাবত এ পেশায় আছি। রশি তৈরি করে ৫ ছেলে সহ ৭ জনের পরিবার কোনরকম জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় টিকে আছি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহায়তা পেলে আমরা আবার এ পেশাকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হব।
কালের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত স্হানীয় লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ঐতিহ্যবাহী লেবুখালী পুরান বাজার এলাকার রশি শিল্প একসময় দক্ষিণাঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সমাদর ছিল। বর্তমানে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে হারাতে বসেছে এ শিল্প। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহায়তা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সম্ভাবনাময় এ রশি শিল্প।

Facebook Comments Box