ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo লালমোহনে দুধে পানি মেশানোর অভিযোগে বিক্রেতার মাথায় দুধ ঢাললেন পৌর কর্মকর্তা Logo বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল বোটসহ ১৬ জেলেকে উদ্ধার করল নৌবাহিনী Logo বরিশাল-ভোলা সংযোগ: উন্নয়নের প্রত্যাশা নাকি অগ্রাধিকারের সংকট? Logo মনপুরায় জেলের জালে ১৬ কেজির কোড়াল, নিলামে বিক্রি ২৪ হাজার টাকায় Logo লালমোহনে অবৈধ সিগারেট ও রোলিং পেপার জব্দ, গোডাউন মালিকদের নিয়ে প্রশ্ন Logo স্বামীর ধারালো অস্রের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম, হাসপাতালে স্ত্রী Logo রূপগঞ্জে পাঠাও কর্মীকে আটকে রেখে মারধর, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই Logo মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপদেষ্টা: সরকারের আকার বাড়লেই কি বাড়ে সক্ষমতা? Logo নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

গোপালপুরে অদম্য মেধাবী ছাত্র প্রতিবন্ধী সামি

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২১৭

মোঃ নুর আলম গোপালপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি।
স্টিভেন হকিং বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন চেষ্টা থাকলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোন সমস্যা নয়। হুইল চেয়ার বসে কৃত্রিম কণ্ঠে কথা বলেও তিনি পৌঁছে যান তাঁর চিন্তার সর্বোচ্চ শিখরে। সেরা তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীদের একজন হিসেবে গণ্য করা তাকে। সমাজে প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম মানেই পরিবারের বোঝা, প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিয়েছে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের কাজীবাড়ীর বাসিন্দা মীর সাজ্জাদ হোসেন ও কাকলী পারভিন দম্পতির প্রথম সন্তান আশরাফুল আলম সামি (১৭)।
অদম্য মেধাবী সামি বর্তমানে গোপালপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের নিয়মিত ছাত্র।

হাত, পা একদম কঞ্চির মতো চিকন, মুখ বাঁকা স্পষ্ট কথা বলতে পারে না। কিছুটা শ্রবণ শক্তিহীন সামির জন্ম ২০০৬ সালে। দাঁড়ানোর সক্ষমতা না থাকায়, বসে হাতের উপর ভর করেই এগিয়ে চলেন তিনি।
বাবা মীর সাজ্জাদ হোসেন পেশায় গাড়ি চালক, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনিও বর্তমানে কর্মক্ষম নয়, মা কাকলি পারভীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে সামি পেয়েছে জিপিএ ফাইভ। এপর্যন্ত ৩টি ট্যালেন্টপুলসহ মোট ৭টি বৃত্তি পেয়েছে!
রান্নাবান্না, ছোট সাইকেল চালানো, ক্রিকেট ব্যাটিং, কেরাম, কম্পিউটার চালানো, গাছে উঠায় পারদর্শিতা ছাড়াও অনলাইনে সার্ভে করে বিগত ৩মাস প্রায় ৮০হাজার টাকা আয় করেও সবাইকে চমকে দিয়েছে।

খাতায় লিখে সামি জানান, আমেরিকান ওয়েবসাইট ফ্রিক্যাশ, সার্ভেজুনকি সহ অন্যান্য সাইটে সার্ভের কাজ করে অনলাইন আয়ের টাকায় ১টি ল্যাপটপ, ২টি স্মার্টফোন ও বাসার আইপিএস কিনেছেন। পড়াশোনায় মাষ্টার্স সম্পন্ন করে, ভবিষ্যৎ এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে আগ্রহী।
মা কাকলি পারভীন বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ছেলেকে নিয়ে ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো, তাই কোলে করে নিয়ে স্কুলে দিয়ে আসতাম। প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে নয় শুরু থেকেই সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়িয়েছি। ছোট থেকেই ছেলের মেধা স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকদের মুগ্ধ করতো। ছেলেকে মাষ্টার্স সম্পন্ন করাতে চাই। সরকার ওর প্রতি সদয় হয়ে যদি আইটি ডিপার্টমেন্ট বা কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি ব্যবস্থা করে দেয় তবেই আমার কষ্ট সার্থক হবে।

সহপাঠী কামরুল ইসলাম জানান, সামির শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও অনেক মেধাবি ছাত্র, হাতের লেখাও সুন্দর। পড়ালেখায় আমরা ওর বিভিন্ন সহযোগিতা পাই, সহপাঠীরা সবাই ওকে ভালো চোখেই দেখি।

সূতী ভিএম সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, সামিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি, ওর মা কোলে নিয়ে বিদ্যালয়ে দিয়ে যেতো, পরবর্তিতে একাই সাইকেল চালিয়ে আসতো। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ওর মেধা আমাকে মুগ্ধ করতো। আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন আমরা খুব বেশি খরচ ওর থেকে নিতাম না। আমার বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। ওর মেধা অনুযায়ী ভালো কোন চাকরি পেলে আমি অনেক খুশি হবো।

গোপালপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মানিকুজ্জামান বলেন, আশরাফুল আলম আমার কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র, ওর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও অনেক মেধাবি ছাত্র।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:৩৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৩ ১২৯ বার পড়া হয়েছে
Logo
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

গোপালপুরে অদম্য মেধাবী ছাত্র প্রতিবন্ধী সামি

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৩৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৩
২১৭

মোঃ নুর আলম গোপালপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি।
স্টিভেন হকিং বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন চেষ্টা থাকলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোন সমস্যা নয়। হুইল চেয়ার বসে কৃত্রিম কণ্ঠে কথা বলেও তিনি পৌঁছে যান তাঁর চিন্তার সর্বোচ্চ শিখরে। সেরা তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীদের একজন হিসেবে গণ্য করা তাকে। সমাজে প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম মানেই পরিবারের বোঝা, প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিয়েছে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের কাজীবাড়ীর বাসিন্দা মীর সাজ্জাদ হোসেন ও কাকলী পারভিন দম্পতির প্রথম সন্তান আশরাফুল আলম সামি (১৭)।
অদম্য মেধাবী সামি বর্তমানে গোপালপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের নিয়মিত ছাত্র।

হাত, পা একদম কঞ্চির মতো চিকন, মুখ বাঁকা স্পষ্ট কথা বলতে পারে না। কিছুটা শ্রবণ শক্তিহীন সামির জন্ম ২০০৬ সালে। দাঁড়ানোর সক্ষমতা না থাকায়, বসে হাতের উপর ভর করেই এগিয়ে চলেন তিনি।
বাবা মীর সাজ্জাদ হোসেন পেশায় গাড়ি চালক, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনিও বর্তমানে কর্মক্ষম নয়, মা কাকলি পারভীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে সামি পেয়েছে জিপিএ ফাইভ। এপর্যন্ত ৩টি ট্যালেন্টপুলসহ মোট ৭টি বৃত্তি পেয়েছে!
রান্নাবান্না, ছোট সাইকেল চালানো, ক্রিকেট ব্যাটিং, কেরাম, কম্পিউটার চালানো, গাছে উঠায় পারদর্শিতা ছাড়াও অনলাইনে সার্ভে করে বিগত ৩মাস প্রায় ৮০হাজার টাকা আয় করেও সবাইকে চমকে দিয়েছে।

খাতায় লিখে সামি জানান, আমেরিকান ওয়েবসাইট ফ্রিক্যাশ, সার্ভেজুনকি সহ অন্যান্য সাইটে সার্ভের কাজ করে অনলাইন আয়ের টাকায় ১টি ল্যাপটপ, ২টি স্মার্টফোন ও বাসার আইপিএস কিনেছেন। পড়াশোনায় মাষ্টার্স সম্পন্ন করে, ভবিষ্যৎ এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে আগ্রহী।
মা কাকলি পারভীন বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ছেলেকে নিয়ে ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো, তাই কোলে করে নিয়ে স্কুলে দিয়ে আসতাম। প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে নয় শুরু থেকেই সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়িয়েছি। ছোট থেকেই ছেলের মেধা স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকদের মুগ্ধ করতো। ছেলেকে মাষ্টার্স সম্পন্ন করাতে চাই। সরকার ওর প্রতি সদয় হয়ে যদি আইটি ডিপার্টমেন্ট বা কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি ব্যবস্থা করে দেয় তবেই আমার কষ্ট সার্থক হবে।

সহপাঠী কামরুল ইসলাম জানান, সামির শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও অনেক মেধাবি ছাত্র, হাতের লেখাও সুন্দর। পড়ালেখায় আমরা ওর বিভিন্ন সহযোগিতা পাই, সহপাঠীরা সবাই ওকে ভালো চোখেই দেখি।

সূতী ভিএম সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, সামিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি, ওর মা কোলে নিয়ে বিদ্যালয়ে দিয়ে যেতো, পরবর্তিতে একাই সাইকেল চালিয়ে আসতো। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ওর মেধা আমাকে মুগ্ধ করতো। আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন আমরা খুব বেশি খরচ ওর থেকে নিতাম না। আমার বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। ওর মেধা অনুযায়ী ভালো কোন চাকরি পেলে আমি অনেক খুশি হবো।

গোপালপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মানিকুজ্জামান বলেন, আশরাফুল আলম আমার কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র, ওর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও অনেক মেধাবি ছাত্র।

Facebook Comments Box