ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo সাবেক স্ত্রীর বিয়ে, ছেলেকে হত্যার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার Logo নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এক ঘণ্টার বেশি রোদে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ Logo এক ট্রলারে ধরা পড়ল ৬০ মণ ইলিশ Logo সেতুর স্ল্যাবে রডের বদলে জিআই তার দিয়ে ঢালাই, উপজেলা প্রকৌশলী বদলি Logo ভোলায় জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে চ্যাম্পিয়ন লালমোহনের হা-মীম Logo সীমানা প্রাচীর নেই, ব্যস্ত সড়কেই ঝুঁকি: কুশলনাথ স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ Logo উত্তর লস্করচালা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান Logo ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ধান খেতের পাশে Logo অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু Logo অধ্যক্ষের ওপর হামলা মনপুরায় মাদ্রাসার সুপারসহ যুবদল-স্বেচ্ছাসেবকদলের আট নেতার বিরুদ্ধে মামলা

চরফ্যাশনে স্ত্রীর ফাঁদে নিঃস্ব প্রবাসি স্বামী

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৪২

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
চরফ্যাশনে স্ত্রী সালমা চৌধুরীর প্রতারণার স্বীকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে রাস্তার ফকিরে পরিনত হয়েছেন সৌদি প্রবাসি মো.শহীদ। দুই দশক সৌদি আরব থেকে রোজগারের কোটি টাকা স্ত্রী সালমা চৌধুরীর ব্যাংক হিসেবে দেন এই প্রবাসি। প্রতারক সালমা বেগম শঠতার মাধ্যমে ওই টাকায় নিজের এবং বাবার নামে সম্পদ গড়ে এখন আর স্বামীকে স্বীকার করছেন না। ফলে নিজের টাকায় অর্জিত ঘরবাড়ি থেকে বিতারিত হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
জানাযায়, ভোলার আলী নগর গ্রামের মো.শহীদ প্রথম স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদের পর ২০০৯ সনে চরফ্যাশনের রসুলপুর গ্রামের আব্দুল গনি চৌধুরী কন্যা সালমা চৌধুরীকে বিয়ে করেন। বিয়ের সুত্রে ১ম স্ত্রীর ঘরের দুই ছেলে আরিফ ও আফরানকে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা চৌধুরীর পৈত্রিক ঠিকানা রসুলপুর গ্রামে স্থায়ী বসতি গড়েন।
ভাগ্যবঞ্চিত মো.শহীদ অভিযোগ করেন, শ্বশুর আব্দুল গনি চৌধুরীর রসুলপুর গ্রামে স্থায়ী বসতি স্থাপনের লক্ষ্য থেকেই স্ত্রী সালমা চৌধুরীর পরামর্শে জমি কেনা এবং ঘর নির্মাণসহ নানান প্রয়োজনে প্রবাসে অর্জিত কোটি টাকা স্ত্রীর ব্যাংক হিসেবে পাঠিয়েছেন। প্রবাসে থাকায় স্ত্রী সালমা চৌধুরী ভুলভাল বুঝিয়ে তার টাকায় কেনা ঘর বাড়িসহ সব সম্পদ নিজের এবং তার পিতা গনি চৌধুরীর নামে ক্রয় করে নেন। মাঝে মধ্যে দেশে ফিরলেও এসব সম্পদের দলিল তাকে দেখাতেন না।দেখতে চাইলেও ছলচাতুরী করে এড়িয়ে যেতেন।
গভীর বিশ্বাসের কারণে তিনি নিজেও বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখেননি। কিন্ত বিপত্তি বাঁধে ২০১৯ সনে সর্বশেষ প্রবাস থেকে দেশে ফেরার আগে। যখন স্ত্রী সালমা চৌধুরীর পরপুরুষের সাথে পরকীয়ার নানান প্রমান তার সামনে হাজির হয়। দেশে ফিরে পরকীয়ার বিষয় স্ত্রী সালমা চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করতে সে শহীদকে স্বামী হিসেবে অস্বীকার করে। বাবা ভাইসহ শহীদকে মারধর করে পাসপোর্ট ভিসা রেখে বাড়ি-ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করেন।সেই থেকে সর্বস্ব হারিয়ে এখানে সেখানে ঠিকানা বিহীন মানুষের মত জীবন যাপন করছেন এই প্রবাসি।
সালমার বাবা আব্দুল গনি চৌধুরী প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হওয়ায় সমাজ থেকে থানা পুলিশের কেউ এ প্রর্যন্ত তার কোন কথা আমলে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি।
পরিবর্তিত এই সময়ে এসে ভাগ্যবঞ্চিত এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা তার বেহাত হওয়া কোটি টাকার সম্পদ এবং সন্তানদের ফেরত পাওয়ার দাবিতে দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন।
প্রবাসি শহীদ আরও জানান, ঘরবাড়ি ছাড়া করার সাথে সাথে তার প্রথম স্ত্রীর ঘরের দুই ছেলে আরিফ এবং আফরানকেও ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। অপর দিকে সালমা চৌধুরীর ঘরে তার সাদিয়া (১১) এবং শরিফ (৬) নামের দুটি সন্তান রয়েছে। এই দুই সন্তানের সাথেও বাবা শহীদের যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে স্বামী মো.শহীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে সালমা চৌধুরী জানান, ৫বছর আগেই তিনি স্বামী শহীদকে তালাক দিয়েছেন। তালাক দেওয়ার পর নিজের প্রয়োজনে তিনি পর্যায়ক্রমে আরো ৩টি বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু এ-সব বিয়ের কোনটিই বেশিদিন স্থায়ী হয়নি বলে সালমা চৌধুরী জানান।
তিনি আরও বলেন, দশ বছর আগে স্বামী শহীদ থেকে টাকা নিয়ে বসতঘরটি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া তার কাছ থেকে অন্য কোন টাকা কিংবা তার টাকায় অর্জিত সম্পদ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এই ঘটনায় নিউজ প্রকাশ করলে প্রতিবেদককে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারি।
সালমা চৌধুরীর বাবা আব্দুল গনি চৌধুরী জানান, শহীদের বাজে আচরণের জন্য সংসার ভেঙেছে। তবে মেয়ে সালমার একের পর এক বিয়ের কারণে সমাজের কাছে তিনি ও তার পরিবার বড় কথা বলতে পারছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১০:৪৭:৫০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৪ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে
Logo
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

চরফ্যাশনে স্ত্রীর ফাঁদে নিঃস্ব প্রবাসি স্বামী

আপডেট সময় : ১০:৪৭:৫০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৪
২৪২

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
চরফ্যাশনে স্ত্রী সালমা চৌধুরীর প্রতারণার স্বীকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে রাস্তার ফকিরে পরিনত হয়েছেন সৌদি প্রবাসি মো.শহীদ। দুই দশক সৌদি আরব থেকে রোজগারের কোটি টাকা স্ত্রী সালমা চৌধুরীর ব্যাংক হিসেবে দেন এই প্রবাসি। প্রতারক সালমা বেগম শঠতার মাধ্যমে ওই টাকায় নিজের এবং বাবার নামে সম্পদ গড়ে এখন আর স্বামীকে স্বীকার করছেন না। ফলে নিজের টাকায় অর্জিত ঘরবাড়ি থেকে বিতারিত হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
জানাযায়, ভোলার আলী নগর গ্রামের মো.শহীদ প্রথম স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদের পর ২০০৯ সনে চরফ্যাশনের রসুলপুর গ্রামের আব্দুল গনি চৌধুরী কন্যা সালমা চৌধুরীকে বিয়ে করেন। বিয়ের সুত্রে ১ম স্ত্রীর ঘরের দুই ছেলে আরিফ ও আফরানকে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা চৌধুরীর পৈত্রিক ঠিকানা রসুলপুর গ্রামে স্থায়ী বসতি গড়েন।
ভাগ্যবঞ্চিত মো.শহীদ অভিযোগ করেন, শ্বশুর আব্দুল গনি চৌধুরীর রসুলপুর গ্রামে স্থায়ী বসতি স্থাপনের লক্ষ্য থেকেই স্ত্রী সালমা চৌধুরীর পরামর্শে জমি কেনা এবং ঘর নির্মাণসহ নানান প্রয়োজনে প্রবাসে অর্জিত কোটি টাকা স্ত্রীর ব্যাংক হিসেবে পাঠিয়েছেন। প্রবাসে থাকায় স্ত্রী সালমা চৌধুরী ভুলভাল বুঝিয়ে তার টাকায় কেনা ঘর বাড়িসহ সব সম্পদ নিজের এবং তার পিতা গনি চৌধুরীর নামে ক্রয় করে নেন। মাঝে মধ্যে দেশে ফিরলেও এসব সম্পদের দলিল তাকে দেখাতেন না।দেখতে চাইলেও ছলচাতুরী করে এড়িয়ে যেতেন।
গভীর বিশ্বাসের কারণে তিনি নিজেও বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখেননি। কিন্ত বিপত্তি বাঁধে ২০১৯ সনে সর্বশেষ প্রবাস থেকে দেশে ফেরার আগে। যখন স্ত্রী সালমা চৌধুরীর পরপুরুষের সাথে পরকীয়ার নানান প্রমান তার সামনে হাজির হয়। দেশে ফিরে পরকীয়ার বিষয় স্ত্রী সালমা চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করতে সে শহীদকে স্বামী হিসেবে অস্বীকার করে। বাবা ভাইসহ শহীদকে মারধর করে পাসপোর্ট ভিসা রেখে বাড়ি-ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করেন।সেই থেকে সর্বস্ব হারিয়ে এখানে সেখানে ঠিকানা বিহীন মানুষের মত জীবন যাপন করছেন এই প্রবাসি।
সালমার বাবা আব্দুল গনি চৌধুরী প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হওয়ায় সমাজ থেকে থানা পুলিশের কেউ এ প্রর্যন্ত তার কোন কথা আমলে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি।
পরিবর্তিত এই সময়ে এসে ভাগ্যবঞ্চিত এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা তার বেহাত হওয়া কোটি টাকার সম্পদ এবং সন্তানদের ফেরত পাওয়ার দাবিতে দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন।
প্রবাসি শহীদ আরও জানান, ঘরবাড়ি ছাড়া করার সাথে সাথে তার প্রথম স্ত্রীর ঘরের দুই ছেলে আরিফ এবং আফরানকেও ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। অপর দিকে সালমা চৌধুরীর ঘরে তার সাদিয়া (১১) এবং শরিফ (৬) নামের দুটি সন্তান রয়েছে। এই দুই সন্তানের সাথেও বাবা শহীদের যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে স্বামী মো.শহীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে সালমা চৌধুরী জানান, ৫বছর আগেই তিনি স্বামী শহীদকে তালাক দিয়েছেন। তালাক দেওয়ার পর নিজের প্রয়োজনে তিনি পর্যায়ক্রমে আরো ৩টি বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু এ-সব বিয়ের কোনটিই বেশিদিন স্থায়ী হয়নি বলে সালমা চৌধুরী জানান।
তিনি আরও বলেন, দশ বছর আগে স্বামী শহীদ থেকে টাকা নিয়ে বসতঘরটি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া তার কাছ থেকে অন্য কোন টাকা কিংবা তার টাকায় অর্জিত সম্পদ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এই ঘটনায় নিউজ প্রকাশ করলে প্রতিবেদককে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারি।
সালমা চৌধুরীর বাবা আব্দুল গনি চৌধুরী জানান, শহীদের বাজে আচরণের জন্য সংসার ভেঙেছে। তবে মেয়ে সালমার একের পর এক বিয়ের কারণে সমাজের কাছে তিনি ও তার পরিবার বড় কথা বলতে পারছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

Facebook Comments Box