ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo সৎ সাহস থাকলে পালিয়ে নয়, আদালতে আসুন: ডা. জাহিদ Logo সাইবার বুলিং ঠেকাতে কার্যকর নীতি চায় আইআরআই, আইন সংশোধনে মতামত নিচ্ছে সরকার Logo মনপুরায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি ও সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত Logo “মনপুরায় দ্রুত জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ও কলাতলীতে বেড়ীবাঁধ নির্মানের আশ্বাস -কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারন সম্পাদক ও এমপি নয়ন Logo কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে ভুয়া কাগজপত্র ও অনিয়মের অভিযোগ Logo ১০ টাকার সিম নিতে গিয়ে তথ্যের ঝুঁকিতে শত শত গ্রাহক, পঞ্চগড়ে আটক ৩ Logo কুমারখালীতে ফসলি জমি হুমকিতে: পদ্মা নদীর কোল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন Logo প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়তে Ovipray-এর নতুন উদ্যোগ, অনুষ্ঠিত Robotics ও AI কর্মশালা Logo কালিয়াকৈরে বজ্রপাতের পর নৌকা থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু Logo মনপুরায় ১ ইলিশের দাম ১৫ হাজার টাকা।

জীবন বাজি রেখে পরীক্ষার ভুলের মাশুল দিলো তজুমদ্দিনের এইচএসসি পরীক্ষার্থী তনু

তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি :
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৭০৮

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল লেখার মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত শিক্ষার্থীর নাম তনু চন্দ্র দাস (১৮)।

সোমবার (২৮ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে নিজ ঘরে কিটনাশক পান করেন তনু। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তনু ছিলেন তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শায়েস্তাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক ব্রিটিশ চন্দ্র দাস ও গৃহিণী উজ্জলা রাণী দাস দম্পতির একমাত্র সন্তান। তিনি তজুমদ্দিন হোসনেয়ারা চৌধুরী মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিলেন এবং চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।

তনুর মা উজ্জলা রাণী দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“সোমবার ছিল তনুর জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষা। পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরে সে অস্থির হয়ে পড়ে এবং আমাকে জানায়, খাতায় ভুল করে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে ফেলেছে। সে বারবার বলছিল, ‘আমি আর পাস করব না।’ আমি অনেক বোঝানোর চেষ্টা করি, কিছুটা শান্তও হয়েছিল। কিন্তু রাত ৯টার দিকে হঠাৎ চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি, সে কিটনাশক খেয়ে ফেলেছে। দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই, সেখান থেকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।”

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জুনায়েদ হোসেন জানান,
“রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার মৃত্যু কিটনাশক পানে হয়েছে।”

তনুর এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান—এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। একটি ছোট ভুলের কারণে একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ ঝরে যাওয়া সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

তারা বলেন, পরীক্ষার্থীদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল মনোভাব এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের উচিত ছাত্রছাত্রীদের মানসিক চাপ লাঘবে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:৫২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫ ৫১৫ বার পড়া হয়েছে
Logo
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

জীবন বাজি রেখে পরীক্ষার ভুলের মাশুল দিলো তজুমদ্দিনের এইচএসসি পরীক্ষার্থী তনু

আপডেট সময় : ০১:৩০:৫২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
৭০৮

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল লেখার মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত শিক্ষার্থীর নাম তনু চন্দ্র দাস (১৮)।

সোমবার (২৮ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে নিজ ঘরে কিটনাশক পান করেন তনু। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তনু ছিলেন তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শায়েস্তাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক ব্রিটিশ চন্দ্র দাস ও গৃহিণী উজ্জলা রাণী দাস দম্পতির একমাত্র সন্তান। তিনি তজুমদ্দিন হোসনেয়ারা চৌধুরী মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিলেন এবং চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।

তনুর মা উজ্জলা রাণী দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“সোমবার ছিল তনুর জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষা। পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরে সে অস্থির হয়ে পড়ে এবং আমাকে জানায়, খাতায় ভুল করে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে ফেলেছে। সে বারবার বলছিল, ‘আমি আর পাস করব না।’ আমি অনেক বোঝানোর চেষ্টা করি, কিছুটা শান্তও হয়েছিল। কিন্তু রাত ৯টার দিকে হঠাৎ চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি, সে কিটনাশক খেয়ে ফেলেছে। দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই, সেখান থেকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।”

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জুনায়েদ হোসেন জানান,
“রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার মৃত্যু কিটনাশক পানে হয়েছে।”

তনুর এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান—এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। একটি ছোট ভুলের কারণে একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ ঝরে যাওয়া সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

তারা বলেন, পরীক্ষার্থীদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল মনোভাব এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের উচিত ছাত্রছাত্রীদের মানসিক চাপ লাঘবে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।

Facebook Comments Box