ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ধান খেতের পাশে Logo অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু Logo অধ্যক্ষের ওপর হামলা মনপুরায় মাদ্রাসার সুপারসহ যুবদল-স্বেচ্ছাসেবকদলের আট নেতার বিরুদ্ধে মামলা Logo লক্ষ্মীপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি কবরস্থান দখলের অভিযোগ Logo ঝাড়ফুঁকের কথা বলে শিশুকে ধর্ষণ, জামায়াতের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার Logo আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ, ওসি প্রত্যাহার Logo ভোলার ধনিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী বেলাল হোসেনের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo মনপুরায় মসজিদের ভিতর এক শিক্ষককে মারধর ও রক্তাক্ত করার অভিযোগ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের নিন্দা Logo ভূরুঙ্গামারীতে প্রতিবন্ধী স্কুল নিয়ে নানা অভিযোগ Logo দৌলতখানে স্কুল কমিটির সভাপতি হতে না পেরে শিক্ষককে মারধর, থানায় লিখিত অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে চোখ রাঙাচ্ছে চিকেন পক্স ২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় চিন্তিত চিকিৎসক মহল

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৬৩

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে চোখ রাঙিয়ে ব্যাপক আকার ধারন করেছে চিকেন পক্স বা জল বসন্ত। প্রতি বছর শীতের শেষ আর বসন্তের শুরু, এই সন্ধিক্ষণেই দেখা মেলে এ রোগের। তবে এ বছর যেন চিকেন পক্সের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করেছে ঠাকুরগাঁওয়ে।

জেলার হরিপুর ও রাণীশংকর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা গুলিতে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে চিকেন পক্স বা জল বসন্ত রোগের। চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি সময়ে চিকেন পক্স বা জল বসন্তে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। সাম্প্রতিক কালে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক বাড়ছে। চিন্তিত চিকিৎসক মহলও। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে, এ বছর চিকেন পক্সে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্ক ও শিশুরা। চিকিৎসা বিভাগ বলছে তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ রোগের ধরন নির্ণয় করা হবে। আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদানে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বনগাঁ ও কিসমত গ্রামে এবং রাণীশংকল উপজেলার ধর্মঘট ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে এ রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে ব্যাপক হারে। শরীরে পানি সহ গুটি গুটি র‌্যাসের দেখা যায়, সাথে থাকে জ্বর আর তীব্র শরীর ব্যথা। এমনই উপসর্গ চিকেন পক্সের। ইতিমধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হরিপুর উপজেলার কিসমত গ্রামের আমিনুল রহমান এমিলিক (৩২) ও এসান উল্লাহ (৩০) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে । গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বাধা দেয়া থেকে শুরু করে লুকিয়ে পড়ছে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও । আক্রান্ত অনেকেই হাসপাতালে না গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে কবিরাজ ও ঝাড়ফুঁকের ।

এ রোগে আক্রান্ত রোগী জেসমিন আক্তার জানান, আমি আজ এক সপ্তাহ ধরেই আক্রান্ত। আমাদের গ্রামের ২ জন সহ পাশের গ্রামের আরো ২ জনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। আমার ভিশন ভয় করছে। এমনিতেই শরীরে ভিশন ব্যাথা অনুভব করছি এবং কোন ধরনের খাবার খেতে পারছিনা।

হরিপুর উপজেলার স্থানীয় হোমিও চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানান যে প্রতিদিনই ১২ থেকে ২০ জন চিকেন পক্সের রোগি উঠে আসছে। ঔষধের পাশাপাশি তরল খাবার ও পানীয় গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

হরিপুর উপজেলার বনগাঁ এলাকার সাবেক মেম্বার আবুল কাশেম জানান, আগেও আমাদের এ এলাকায় এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে লোকজন। তবে এবার যে হারে এর প্রকোপ দেখা গিয়েছে আর যেভাবে মৃত্যুর ঘঁনা ঘটছে তাতে আমরা সবাই বেশ ভয়ের মাঝেই আছি।

কেন হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল চিকেন পক্স? এ সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নুর নেওয়াজকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা গ্রামে গিয়ে পরিদর্শণ করে এ রোগের ধরন নির্নয় করে দ্রুত রিপোর্ট দাখিল করবে। এছাড়াও ওই ওলাকার আরএমও থেকে শুরু করে সকল চিকিৎসক যেনো পিপিই ব্যবহার করেই রোগিদের কাছে যায় এবং চিকিৎসা চালিয়ে যায় সে বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:৪৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৬৫ বার পড়া হয়েছে
Logo
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

ঠাকুরগাঁওয়ে চোখ রাঙাচ্ছে চিকেন পক্স ২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় চিন্তিত চিকিৎসক মহল

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৪৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩
২৬৩

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে চোখ রাঙিয়ে ব্যাপক আকার ধারন করেছে চিকেন পক্স বা জল বসন্ত। প্রতি বছর শীতের শেষ আর বসন্তের শুরু, এই সন্ধিক্ষণেই দেখা মেলে এ রোগের। তবে এ বছর যেন চিকেন পক্সের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করেছে ঠাকুরগাঁওয়ে।

জেলার হরিপুর ও রাণীশংকর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা গুলিতে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে চিকেন পক্স বা জল বসন্ত রোগের। চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি সময়ে চিকেন পক্স বা জল বসন্তে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। সাম্প্রতিক কালে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক বাড়ছে। চিন্তিত চিকিৎসক মহলও। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে, এ বছর চিকেন পক্সে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্ক ও শিশুরা। চিকিৎসা বিভাগ বলছে তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ রোগের ধরন নির্ণয় করা হবে। আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদানে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বনগাঁ ও কিসমত গ্রামে এবং রাণীশংকল উপজেলার ধর্মঘট ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে এ রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে ব্যাপক হারে। শরীরে পানি সহ গুটি গুটি র‌্যাসের দেখা যায়, সাথে থাকে জ্বর আর তীব্র শরীর ব্যথা। এমনই উপসর্গ চিকেন পক্সের। ইতিমধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হরিপুর উপজেলার কিসমত গ্রামের আমিনুল রহমান এমিলিক (৩২) ও এসান উল্লাহ (৩০) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে । গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বাধা দেয়া থেকে শুরু করে লুকিয়ে পড়ছে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও । আক্রান্ত অনেকেই হাসপাতালে না গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে কবিরাজ ও ঝাড়ফুঁকের ।

এ রোগে আক্রান্ত রোগী জেসমিন আক্তার জানান, আমি আজ এক সপ্তাহ ধরেই আক্রান্ত। আমাদের গ্রামের ২ জন সহ পাশের গ্রামের আরো ২ জনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। আমার ভিশন ভয় করছে। এমনিতেই শরীরে ভিশন ব্যাথা অনুভব করছি এবং কোন ধরনের খাবার খেতে পারছিনা।

হরিপুর উপজেলার স্থানীয় হোমিও চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানান যে প্রতিদিনই ১২ থেকে ২০ জন চিকেন পক্সের রোগি উঠে আসছে। ঔষধের পাশাপাশি তরল খাবার ও পানীয় গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

হরিপুর উপজেলার বনগাঁ এলাকার সাবেক মেম্বার আবুল কাশেম জানান, আগেও আমাদের এ এলাকায় এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে লোকজন। তবে এবার যে হারে এর প্রকোপ দেখা গিয়েছে আর যেভাবে মৃত্যুর ঘঁনা ঘটছে তাতে আমরা সবাই বেশ ভয়ের মাঝেই আছি।

কেন হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল চিকেন পক্স? এ সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নুর নেওয়াজকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা গ্রামে গিয়ে পরিদর্শণ করে এ রোগের ধরন নির্নয় করে দ্রুত রিপোর্ট দাখিল করবে। এছাড়াও ওই ওলাকার আরএমও থেকে শুরু করে সকল চিকিৎসক যেনো পিপিই ব্যবহার করেই রোগিদের কাছে যায় এবং চিকিৎসা চালিয়ে যায় সে বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box