
ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় চাঁদপুর ইউনিয়নের মোল্লা পুকুর দোকানের কাছে কাঞ্চন পাটোয়ারী বাড়ির দরজায় অবস্থিত তালিমুল কুরআন মডেল মাদ্রাসার ক্লাসরুমের সামনে অজ্ঞাত ব্যক্তি নবজাতক কন্যাশিশুকে ফেলে রেখে যায়।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয়রা শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে তজুমুদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়।
তজুমুদ্দিন থানার কর্তব্যরত এসআই (নি:) জনাব অসীম কুমার কর্মকার সঙ্গীয় ফোর্সসহ ডিউটি পালনকালে সংবাদ পেয়ে থানায় জিডি রুজু করেন (নম্বর – ১১২২ তারিখ: ২৭/০৮/২০২৫)।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তজুমুদ্দিন, ভোলা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও প্রবেশন অফিসারকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। গঠিত কমিটি শিশুটিকে বিকল্প পরিচর্যায় রাখার জন্য দায়িত্বশীল পরিবার খোঁজ করেন।
ইতোমধ্যে তজুমদ্দিনের একজন ব্যবসায়ী জনাব মো: সবুজ শিশুটির অভিভাবকত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভাপতি বরাবর শিশুটির অভিভাবকত্ব পেতে আবেদন করেন।
তদন্ত কমিটি আবেদনের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২৮/০৮/২০২৫ তজুমুদ্দিন উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভায় শিশুটির সুরক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং বোর্ডের সকল সদস্যের সম্মতিতে শর্ত সাপেক্ষে সাময়িকভাবে শিশুটির দায়িত্ব মো: সবুজ ও নাজমুন নাহার লুবনা দম্পতির নিকট অর্পণ করা হয়।
পরর্বতীতে শিশুটির মূল অভিভাবক পাওয়া না গেলে চূড়ান্ত অভিভাবকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় জনগণ, তজুমুদ্দিন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে একটি অসহায় শিশু পেলো পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়। ফিরে পেল বাবা-মায়ের মমতা। আর একইসাথে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় এবং মানবিকতা পরিলক্ষিত হয়।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন