ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo সাইবার বুলিং ঠেকাতে কার্যকর নীতি চায় আইআরআই, আইন সংশোধনে মতামত নিচ্ছে সরকার Logo মনপুরায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি ও সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত Logo “মনপুরায় দ্রুত জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ও কলাতলীতে বেড়ীবাঁধ নির্মানের আশ্বাস -কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারন সম্পাদক ও এমপি নয়ন Logo কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে ভুয়া কাগজপত্র ও অনিয়মের অভিযোগ Logo ১০ টাকার সিম নিতে গিয়ে তথ্যের ঝুঁকিতে শত শত গ্রাহক, পঞ্চগড়ে আটক ৩ Logo কুমারখালীতে ফসলি জমি হুমকিতে: পদ্মা নদীর কোল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন Logo প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়তে Ovipray-এর নতুন উদ্যোগ, অনুষ্ঠিত Robotics ও AI কর্মশালা Logo কালিয়াকৈরে বজ্রপাতের পর নৌকা থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু Logo মনপুরায় ১ ইলিশের দাম ১৫ হাজার টাকা। Logo রূপগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

টাকার বিনিময়ে ভুয়া রিপোর্ট দেন লালমোহন হাসপাতালের পিয়ন মহসিন

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৯৬

ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা সনদ (মেডিকেল সার্টিফিকেট) ও মেডিকেল রিপোর্ট পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের পিয়ন মহসিনের বিরুদ্ধে। তিনি চাকুরী করেন পিয়ন হিসেবে। কিন্তু রোগী ও তাদের স্বজন এবং সাধারণ মানুষের কাছে পরিচয় দেন হাসপাতালের অফিস সহকারী হিসেবে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তিনি আসামিপক্ষের পক্ষে মনমতো ভুয়া বা পরিবর্তিত মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছেন। এতে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী রোগী ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গজারিয়া এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত জব্বারের ছেলে ফারুক প্রতিপক্ষের হামলায় হাত ভেঙে গেলে তিনি লালমোহন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১, তারিখ: ০৮/০৬/২০২৬)। ওই ঘটনায় হাসপাতাল থেকে প্রথমে তাকে সামান্য আঘাত উল্লেখ করে মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করলে তাদের আইনজীবী রিপোর্টটিকে ভুয়া বলে দাবি করেন। এরপর তারা পুনরায় অফিস সহকারী মহসিনের কাছে গেলে তিনি পূর্বের রিপোর্ট পরিবর্তন করে একই ঘটনার জন্য ২২/০৬/২০২৬ তারিখে মারাত্মক জখম উল্লেখ করে আরেকটি রিপোর্ট তৈরি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আক্তারের স্ত্রী ইয়াসমিন দা-এর কোপে হাতের কব্জিতে গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তিনি এ ঘটনায় একটি মামলা করেন (মামলা নং-২৯, তারিখ: ২৯/০৬/২০২৬)। কিন্তু তার হাতের গভীর ও গুরুতর আঘাত থাকা সত্ত্বেও মেডিকেল রিপোর্টে সেটিকে সামান্য জখম হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অফিস সহকারী মহসিন ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের বিপক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট ও বানোয়াট মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছেন।

তাদের আরও অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনা ও পুলিশের মাধ্যমে মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করার কথা থাকলেও পিয়ন মহসিন নিজেই আহত ব্যক্তিদের ফোন করে হাসপাতালে এসে রিপোর্ট নিয়ে যেতে বলেন। এ কাজে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একজন পিয়ন হয়ে হয়ে তিনি কীভাবে এবং কোন এখতিয়ারে মামলার মতো সংবেদনশীল মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি বা পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার না হন।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিয়ন মহসিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালের রোগীদের সার্টিফিকেটের কাগজপত্র আমি প্রসেসিং করি। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক সার্টিফিকেট প্রদান করেন। আমি টাকার বিনিময়ে কাউকে কোনো সার্টিফিকেট দিই না।

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) মো. আবু মাহমুদ তালহা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:২৮:০৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ২৪৬ বার পড়া হয়েছে
Logo
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

টাকার বিনিময়ে ভুয়া রিপোর্ট দেন লালমোহন হাসপাতালের পিয়ন মহসিন

আপডেট সময় : ০৮:২৮:০৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
২৯৬

ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা সনদ (মেডিকেল সার্টিফিকেট) ও মেডিকেল রিপোর্ট পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের পিয়ন মহসিনের বিরুদ্ধে। তিনি চাকুরী করেন পিয়ন হিসেবে। কিন্তু রোগী ও তাদের স্বজন এবং সাধারণ মানুষের কাছে পরিচয় দেন হাসপাতালের অফিস সহকারী হিসেবে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তিনি আসামিপক্ষের পক্ষে মনমতো ভুয়া বা পরিবর্তিত মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছেন। এতে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী রোগী ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গজারিয়া এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত জব্বারের ছেলে ফারুক প্রতিপক্ষের হামলায় হাত ভেঙে গেলে তিনি লালমোহন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১, তারিখ: ০৮/০৬/২০২৬)। ওই ঘটনায় হাসপাতাল থেকে প্রথমে তাকে সামান্য আঘাত উল্লেখ করে মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করলে তাদের আইনজীবী রিপোর্টটিকে ভুয়া বলে দাবি করেন। এরপর তারা পুনরায় অফিস সহকারী মহসিনের কাছে গেলে তিনি পূর্বের রিপোর্ট পরিবর্তন করে একই ঘটনার জন্য ২২/০৬/২০২৬ তারিখে মারাত্মক জখম উল্লেখ করে আরেকটি রিপোর্ট তৈরি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আক্তারের স্ত্রী ইয়াসমিন দা-এর কোপে হাতের কব্জিতে গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তিনি এ ঘটনায় একটি মামলা করেন (মামলা নং-২৯, তারিখ: ২৯/০৬/২০২৬)। কিন্তু তার হাতের গভীর ও গুরুতর আঘাত থাকা সত্ত্বেও মেডিকেল রিপোর্টে সেটিকে সামান্য জখম হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অফিস সহকারী মহসিন ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের বিপক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট ও বানোয়াট মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছেন।

তাদের আরও অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনা ও পুলিশের মাধ্যমে মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করার কথা থাকলেও পিয়ন মহসিন নিজেই আহত ব্যক্তিদের ফোন করে হাসপাতালে এসে রিপোর্ট নিয়ে যেতে বলেন। এ কাজে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একজন পিয়ন হয়ে হয়ে তিনি কীভাবে এবং কোন এখতিয়ারে মামলার মতো সংবেদনশীল মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি বা পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার না হন।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিয়ন মহসিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালের রোগীদের সার্টিফিকেটের কাগজপত্র আমি প্রসেসিং করি। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক সার্টিফিকেট প্রদান করেন। আমি টাকার বিনিময়ে কাউকে কোনো সার্টিফিকেট দিই না।

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) মো. আবু মাহমুদ তালহা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box