
শনিবার, ২১ জুন দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে রাজধানীর অদূরে সাভারের আশুলিয়া থানাধীন শ্রীপুর, গণকবাড়ি এলাকায় অবস্থিত দারুল ইহসান ট্রাস্ট পরিচালিত তাহফিযুল কুরআনুল কারিম ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসার ক্যাম্পাসে ঘটে এক চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা।
ঘটনার সময় মাদরাসার মূল ফটকে প্রথমে হামলার চেষ্টা চালায় দারুল ইহসান ট্রাস্টের জায়গা ও সম্পত্তির অবৈধ দখলকারীরা। গেইট বন্ধ থাকায় তারা দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত দুইজন সিকিউরিটি ইনচার্জকে গুরুতর আহত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন: জসিম মণ্ডল (শ্রীপুর), স্বপন মণ্ডল (শ্রীপুর), ইমাম হাসান ও ইমাম হোসেন (করিমপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী), ইবরাহিম ও তার ছেলে রিফাত (ময়নারটেক, উত্তরখান, ঢাকা), মহর আলী, ওসমান গণী (নাগরপুর, টাঙ্গাইল), আব্দুল কাদের, ইমরান হোসেন রাব্বিসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ৫০ জন।
হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, হাতুড়ি, রড ও একটি দেশীয় পিস্তলসহ ট্রাস্টের নির্ধারিত অফিস কক্ষে ঢুকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এসেট ম্যানেজার কাম রেন্ট কালেকশন এজেন্ট জাকির হোসেন-সহ কর্মরত কর্মকর্তাদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে জাকির হোসেন গুরুতর আহত হন এবং তার একটি হাত ভেঙ্গে যায়। এছাড়াও অফিসে থাকা কম্পিউটার, মোবাইল ফোনসহ ট্রাস্টের প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে এবং তা ইতোমধ্যে আশুলিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা কামাল স্যার এবং বাইপাইল আর্মি ক্যাম্পের লেফটেন্যান্ট রেফায়েত স্যারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
হামলার পর আহতদের দ্রুত ধামরাই সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ও সাক্ষ্য দিয়েছেন: কারি আব্দুল মালেক, মনির হোসেন, কামরুল হাসান, মফিজুর রহমান, শাওন রহমান, মো. এমদাদুল হক রিপন, মো. আলীমুল ইসলাম, আসিফুজ্জামান আসিফসহ আরও অনেকে।
এই বর্বরোচিত হামলার ফলে মাদরাসার পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন