
ফরিদপুরের নগরকান্দা ও ভাঙ্গা অঞ্চলে দীর্ঘ দিন যাবত মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে আলোচিত কুখ্যাত সুলতান মাহমুদ মন্টু অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছে। তিনি তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নগরকান্দা থানা যুবলীগের শীর্ষ কর্মী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে নগরকান্দার কাইচাইল ইউনিয়নের দলীয় সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ঠান্ডু মাস্টারের ছত্রছায়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ফরিদপুরের হারুয়া কান্দি এলাকার এক নির্জন স্থানে মাদক বিক্রির সময় মন্টু এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে। বহুদিন ধরে তার মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও স্থানীয় জনগণের ওপর দমননীতি চালানোর কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। ঘটনাস্থলে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দিলে পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় সে নগরকান্দায় নিজ বাড়ি ফিরে আসে।
পরদিন ১৫ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে, যৌথবাহিনীর একটি টহল দল পূর্বে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মন্টুর বাসায় অভিযান চালায়। ধারণা করা হয়, তার বাড়িতে ইয়াবা ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের মজুদ ছিল। তল্লাশিতে ৪৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যদিও কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। পরে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নগরকান্দা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, জনগণের গণপিটুনিতে আহত অবস্থায় ছিলেন বিধায় মন্টুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ফরিদপুরে আদালতে তার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, এই শুনানি হবে “রাজনৈতিক প্রভাবাধীন অপরাধের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের এক পরীক্ষণক্ষেত্র।”
মন্টু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রভাব ব্যবহার করে মাদক ব্যবসাকে আড়াল করত এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকলেও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবে আইন থেকে রক্ষা পেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তার গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
নগরকান্দা ও ভাঙ্গার সাধারণ মানুষ মনে করছেন, “অবশেষে ন্যায়বিচারের শুরু হলো।” বহু বছর ধরে এলাকাবাসী মাদক ও দাপটের ভয়ে নীরব ছিল। মন্টুর গ্রেপ্তার ও শুনানি জনমনে নতুন আস্থার সঞ্চার করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মন্টুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মাদক, রাজনৈতিক দমননীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন