ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালক সংকটে বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবা, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা। Logo ফুলবাড়ীতে ৭২টি পূজামণ্ডপে সরকারি বরাদ্দ প্রদান Logo কালিয়াকৈরে আবাসিক হোটেলে অভিযান, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩৯ Logo ফুলবাড়ী উপজেলায় বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি গঠন হাসু আহবায়ক, আব্দুল মান্নান মুকুল সদস্য সচিব Logo বোরহানউদ্দিনে আলোর দিশারী সংস্থার উদ্যোগে সবজি চাষে আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা Logo রূপগঞ্জে পল্লী চিকিৎসক সমিতির উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত Logo নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১৪৫ Logo জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষ্যে উজিরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo তুরাগের ভাঙনে নিঃস্ব শত শত পরিবার, ঝুঁকিতে বসতভিটা Logo উজিরপুরে বসতভিটা দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, এলাকা ছাড়লেন বিধবা নারী

নেপালে বন্যা বিধ্বস্ত সুড়ঙ্গ থেকে ৯ দিন পর দুই জনকে জীবিত উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৫৫

উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিক হলেন সঞ্জয় শাহ এবং কবির মহর্জন। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজারাম বাসনেত নিশ্চিত করেছেন, মাটির প্রায় ১৭০ মিটার গভীরে আটকে থাকা সুড়ঙ্গ থেকে তাদের নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে। দীর্ঘ নয় দিন পর আলোর মুখ দেখা সঞ্জয় শাহকে উদ্ধারকর্মীরা কাঁধে করে বের করে আনেন। সে সময় তার সমস্ত শরীর কাদায় মাখামাঝি অবস্থায় ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্থানীয় ত্রিশূলি সেনা ব্যারাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, নেপালের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিশূলি থ্রি-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। গত সপ্তাহে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি গলিত হিমবাহ ধসে পড়ে। এর ফলে নদীর উপত্যকায় তীব্র বেগে কাদা, পাথর ও পানি ধেয়ে এসে পুরো এলাকা ভাসিয়ে নেয় এবং সেখানকার অধিকাংশ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উদ্ধার অভিযানের শুরু থেকেই সরাসরি যুক্ত থাকা রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সংসদ সদস্য এবং পেশায় প্রকৌশলী শ্রী রাম নেওপানে জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও মানুষ আটকে রয়েছে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন এবং তাদের সন্ধানে সুড়ঙ্গের গভীরে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, শুক্রবার সকালে সুড়ঙ্গের গভীর থেকে হঠাৎ মানুষের কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। এরপরই উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা মানুষদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে এবং সাড়া পায়। কণ্ঠস্বর শোনার পরপরই নেপাল সেনাবাহিনী এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের যৌথ উদ্ধারকারী দল তাদের বের করে আনতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তৎপরতা জোরদার করে।

উদ্ধার অভিযানের বর্ণনা দিয়ে সংসদ সদস্য নেওপানে বলেন, উদ্ধারকারী দলটি সুড়ঙ্গের ভেতর চিৎকার করে বলে, ‘আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি।’ প্রতিউত্তরে ভেতর থেকে সাড়া আসে, ‘ঠিক আছে।’ পরবর্তীতে তিনি জানান যে, সুড়ঙ্গের ভেতরে নিশ্চিতভাবেই একের অধিক ব্যক্তি আটকে রয়েছেন।

২৬ আগস্ট ত্রিশূলী নদী উপত্যকায় হঠাৎ নেমে আসা প্রলয়ঙ্করী বন্যায় এ পর্যন্ত ১২৫২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বন্যায় ওই অঞ্চলের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং প্রধান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, ওই এলাকায় বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে এখন পর্যন্ত ২৭০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৯০০ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে আনুমানিক ৫০০ জন এখনো বিভিন্ন সুড়ঙ্গের ভেতর আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে এখনো আরও ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক জীবিত আছেন বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ। সুড়ঙ্গে আটকে পড়া বাকিদের নিরাপদে বের করে আনতে পুরোদমে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট, দ্য গার্ডিয়ান

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:১৪:০৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২২ বার পড়া হয়েছে
Logo
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

নেপালে বন্যা বিধ্বস্ত সুড়ঙ্গ থেকে ৯ দিন পর দুই জনকে জীবিত উদ্ধার

আপডেট সময় : ০১:১৪:০৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫৫

উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিক হলেন সঞ্জয় শাহ এবং কবির মহর্জন। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজারাম বাসনেত নিশ্চিত করেছেন, মাটির প্রায় ১৭০ মিটার গভীরে আটকে থাকা সুড়ঙ্গ থেকে তাদের নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে। দীর্ঘ নয় দিন পর আলোর মুখ দেখা সঞ্জয় শাহকে উদ্ধারকর্মীরা কাঁধে করে বের করে আনেন। সে সময় তার সমস্ত শরীর কাদায় মাখামাঝি অবস্থায় ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্থানীয় ত্রিশূলি সেনা ব্যারাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, নেপালের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিশূলি থ্রি-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। গত সপ্তাহে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি গলিত হিমবাহ ধসে পড়ে। এর ফলে নদীর উপত্যকায় তীব্র বেগে কাদা, পাথর ও পানি ধেয়ে এসে পুরো এলাকা ভাসিয়ে নেয় এবং সেখানকার অধিকাংশ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উদ্ধার অভিযানের শুরু থেকেই সরাসরি যুক্ত থাকা রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সংসদ সদস্য এবং পেশায় প্রকৌশলী শ্রী রাম নেওপানে জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও মানুষ আটকে রয়েছে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন এবং তাদের সন্ধানে সুড়ঙ্গের গভীরে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, শুক্রবার সকালে সুড়ঙ্গের গভীর থেকে হঠাৎ মানুষের কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। এরপরই উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা মানুষদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে এবং সাড়া পায়। কণ্ঠস্বর শোনার পরপরই নেপাল সেনাবাহিনী এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের যৌথ উদ্ধারকারী দল তাদের বের করে আনতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তৎপরতা জোরদার করে।

উদ্ধার অভিযানের বর্ণনা দিয়ে সংসদ সদস্য নেওপানে বলেন, উদ্ধারকারী দলটি সুড়ঙ্গের ভেতর চিৎকার করে বলে, ‘আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি।’ প্রতিউত্তরে ভেতর থেকে সাড়া আসে, ‘ঠিক আছে।’ পরবর্তীতে তিনি জানান যে, সুড়ঙ্গের ভেতরে নিশ্চিতভাবেই একের অধিক ব্যক্তি আটকে রয়েছেন।

২৬ আগস্ট ত্রিশূলী নদী উপত্যকায় হঠাৎ নেমে আসা প্রলয়ঙ্করী বন্যায় এ পর্যন্ত ১২৫২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বন্যায় ওই অঞ্চলের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং প্রধান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, ওই এলাকায় বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে এখন পর্যন্ত ২৭০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৯০০ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে আনুমানিক ৫০০ জন এখনো বিভিন্ন সুড়ঙ্গের ভেতর আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে এখনো আরও ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক জীবিত আছেন বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ। সুড়ঙ্গে আটকে পড়া বাকিদের নিরাপদে বের করে আনতে পুরোদমে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট, দ্য গার্ডিয়ান

Facebook Comments Box