ঢাকা ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, থানায় জিডি Logo নোয়াখালী জেলা যুবলীগের সভাপতি ইমন ভট্র গ্রেপ্তার Logo লালমোহন হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ Logo হেলপার চালাচ্ছিল বাস, খাদে পড়ে আহত ১০ Logo বাঘাইছড়িতে ৪২ পরিবারের জন্য সৌরশক্তি চালিত নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প উদ্বোধন Logo সৎ সাহস থাকলে পালিয়ে নয়, আদালতে আসুন: ডা. জাহিদ Logo সাইবার বুলিং ঠেকাতে কার্যকর নীতি চায় আইআরআই, আইন সংশোধনে মতামত নিচ্ছে সরকার Logo মনপুরায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি ও সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত Logo “মনপুরায় দ্রুত জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ও কলাতলীতে বেড়ীবাঁধ নির্মানের আশ্বাস -কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারন সম্পাদক ও এমপি নয়ন Logo কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে ভুয়া কাগজপত্র ও অনিয়মের অভিযোগ

বাউফলের কালাইয়া জমে উঠেছে পশুর হাট

কহিনুর, বাউফল (পটুয়াখালী) :
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২১০

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় জমে উঠেছে দক্ষিনা লের বৃহত্তর শতবর্ষী কালাইয়া গরু ছাগলের হাট।

একেবারেই দেশিও প্রজাতীর পশুর হাট হওয়ায় দেশ জুড়ে রয়েছে বিশাল খ্যাতি। এ হাট বসে প্রতি সোমবার। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মহাজন বেপারিরা আসেন এই হাটে। প্রতি হাটে পশু বেচাকেনা হয় প্রায় ১২ কোটি টাকা। তবে কোরবানী উপলক্ষে এ লেনদেন দ্বিগুন হয় বলে জানিয়েছেন হাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন দেখা গেছে, দেশিও খামারের প্রাকৃতিক উপায়ে মোটা তাজা করা বিপুল সংখ্যক গরু-মহিষের আমদানি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অ ল থেকে আসা বেপারিদের ভীরে বাজারটি এখন মুখরিত। এ বছর পশু ক্রয় করতে বেপাড়িরা এসেছেন, রাজশাহী, নওগা, কুষ্টিয়া, খুলনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কক্সবাজার, চাঁদপুর এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন অ ল থেকে।
স্থানীয় কযেকজন পশু বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, হাটের বেশিরভাগ পশু উপজেলার ১৮টি চরসহ দক্ষিণা লের রাঙ্গাবালী, লালমোহন, গলাচিপা, চর মোন্তাজ, চর বিশ^াস, চর কলমি, চর শিবা, চর বাশবাড়িয়ার, দশমিনা, রনগোপালদি, বড় গোপালদি এলকায় উন্মূক্তচরে লালন পালন করে বড় করা হয়েছে।
কথা হয় নোয়খালী থেকে আসা চেীধুরী বেপারি নামের এক মহাজনের সাঙ্গে, তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের বৃহত্তর ঐতিহ্যবাহী এই গরুর হাটটিতে নিরাপত্তা থাকলেও গরু নিয়ে নিজ এলাকায় ফেরার পথে বাউফল ভোলা সিমান্তবর্তী তেঁতুলিয়া নদীতে রয়েছে ডাকাতের ভয়। প্রতিবছর ওই নদীতে অনেক বেপাড়িরা ডাকাতের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
প্রায় তিন দশক ধরে চট্রগ্রাম থেকে ধুরি নৌকা নিয়ে নদী পথে আসেন মফিজ বেপাড়ির অভিযোগ, এক সময়ে কালাইয়া বাজারের নদীর পারে নৌকা রেখে দেশ বিদেশের বেপাড়িরা তাদের কাজ করতো। কিন্তু একে একে সেই পাড় দখল হয়ে যাচ্ছে। যার কারনে বেপাড়িরা তাদের ধুরি নৌকা রাখতে সমস্যা হয়।
নওগার বেপারি ইদ্রিশ মিয়া জানান, ব্যবসার প্রয়োজনে দেশের প্রায় ছোট বড় সকল হাটেই তার আসা যাওয়া রয়েছে, তবে কালাইয়ার হাটের মতন দেশিও প্রজাতীর গরু আর কোথাও পাওয়া যায়না।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রাম থেকে গরু বিক্রি করতে আসা খামারি ফজলুল হক জানান, সারাদিন চরের তরতাজা ঘাষের মধ্যে বিচরণ করে এ গরুগুলো বড় হয়েছে। স্বাস্থ্যবান করতে কেবল যতœ্ই যথেষ্ট। কোন ধরণের ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয়না। প্রতিবছর কোরবানীকে সামনে রেখে তিনি প্রাকৃতিক উপায়ে গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। ফজলুল হকের দাবী সরকার যদি এ এলাকার চরা লে মাটির উচু টিলা করে দেয় তাহলে দেশের দক্ষিা লের দেশিও পশুর খামার গড়তে আগ্রহী হয়ে উঠবেন কৃষকরা। পাল্টে যাবে গ্রামীন অর্থনীতি।
হাটের দায়িত্বরত জহিরুল হক প্যাদা বলেন, বর্তমানে হাটের জায়গায় সংকুলন না হওয়ায় পশু কেনা বেচায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। সরকার যদি হাটটির স্থান বড় করার জন্য কোন ব্যবস্থা নেন তাহলে ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগম আরো বেশি হতো। দেশের বিভিন্ন অ ল থেকে যে সকল ক্রেতা বিক্রেতারা আসেন তাদের সার্বিক নিপত্তা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব কর্মী রয়েছে।
তেঁতুলিয়া নদীর নিরাপত্তা বিষয়ে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্য উপ পরিদর্শক এস আই সহিদুল ইসলাম বলেন, বেপাড়িরা আমাদের জানালে আমারা তাদের নিরাপত্তা দিয়ে পৌঁছে দেই।
বাউফল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই হাটটি থেকে সরকার বছরে দের কোটি টাকার উপরে রাজস্ব পায়। হাটটির সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:২৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৫ জুলাই ২০২২ ১৬২ বার পড়া হয়েছে
Logo
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

বাউফলের কালাইয়া জমে উঠেছে পশুর হাট

আপডেট সময় : ১১:০৩:২৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৫ জুলাই ২০২২
২১০

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় জমে উঠেছে দক্ষিনা লের বৃহত্তর শতবর্ষী কালাইয়া গরু ছাগলের হাট।

একেবারেই দেশিও প্রজাতীর পশুর হাট হওয়ায় দেশ জুড়ে রয়েছে বিশাল খ্যাতি। এ হাট বসে প্রতি সোমবার। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মহাজন বেপারিরা আসেন এই হাটে। প্রতি হাটে পশু বেচাকেনা হয় প্রায় ১২ কোটি টাকা। তবে কোরবানী উপলক্ষে এ লেনদেন দ্বিগুন হয় বলে জানিয়েছেন হাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন দেখা গেছে, দেশিও খামারের প্রাকৃতিক উপায়ে মোটা তাজা করা বিপুল সংখ্যক গরু-মহিষের আমদানি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অ ল থেকে আসা বেপারিদের ভীরে বাজারটি এখন মুখরিত। এ বছর পশু ক্রয় করতে বেপাড়িরা এসেছেন, রাজশাহী, নওগা, কুষ্টিয়া, খুলনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কক্সবাজার, চাঁদপুর এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন অ ল থেকে।
স্থানীয় কযেকজন পশু বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, হাটের বেশিরভাগ পশু উপজেলার ১৮টি চরসহ দক্ষিণা লের রাঙ্গাবালী, লালমোহন, গলাচিপা, চর মোন্তাজ, চর বিশ^াস, চর কলমি, চর শিবা, চর বাশবাড়িয়ার, দশমিনা, রনগোপালদি, বড় গোপালদি এলকায় উন্মূক্তচরে লালন পালন করে বড় করা হয়েছে।
কথা হয় নোয়খালী থেকে আসা চেীধুরী বেপারি নামের এক মহাজনের সাঙ্গে, তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের বৃহত্তর ঐতিহ্যবাহী এই গরুর হাটটিতে নিরাপত্তা থাকলেও গরু নিয়ে নিজ এলাকায় ফেরার পথে বাউফল ভোলা সিমান্তবর্তী তেঁতুলিয়া নদীতে রয়েছে ডাকাতের ভয়। প্রতিবছর ওই নদীতে অনেক বেপাড়িরা ডাকাতের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
প্রায় তিন দশক ধরে চট্রগ্রাম থেকে ধুরি নৌকা নিয়ে নদী পথে আসেন মফিজ বেপাড়ির অভিযোগ, এক সময়ে কালাইয়া বাজারের নদীর পারে নৌকা রেখে দেশ বিদেশের বেপাড়িরা তাদের কাজ করতো। কিন্তু একে একে সেই পাড় দখল হয়ে যাচ্ছে। যার কারনে বেপাড়িরা তাদের ধুরি নৌকা রাখতে সমস্যা হয়।
নওগার বেপারি ইদ্রিশ মিয়া জানান, ব্যবসার প্রয়োজনে দেশের প্রায় ছোট বড় সকল হাটেই তার আসা যাওয়া রয়েছে, তবে কালাইয়ার হাটের মতন দেশিও প্রজাতীর গরু আর কোথাও পাওয়া যায়না।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রাম থেকে গরু বিক্রি করতে আসা খামারি ফজলুল হক জানান, সারাদিন চরের তরতাজা ঘাষের মধ্যে বিচরণ করে এ গরুগুলো বড় হয়েছে। স্বাস্থ্যবান করতে কেবল যতœ্ই যথেষ্ট। কোন ধরণের ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয়না। প্রতিবছর কোরবানীকে সামনে রেখে তিনি প্রাকৃতিক উপায়ে গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। ফজলুল হকের দাবী সরকার যদি এ এলাকার চরা লে মাটির উচু টিলা করে দেয় তাহলে দেশের দক্ষিা লের দেশিও পশুর খামার গড়তে আগ্রহী হয়ে উঠবেন কৃষকরা। পাল্টে যাবে গ্রামীন অর্থনীতি।
হাটের দায়িত্বরত জহিরুল হক প্যাদা বলেন, বর্তমানে হাটের জায়গায় সংকুলন না হওয়ায় পশু কেনা বেচায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। সরকার যদি হাটটির স্থান বড় করার জন্য কোন ব্যবস্থা নেন তাহলে ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগম আরো বেশি হতো। দেশের বিভিন্ন অ ল থেকে যে সকল ক্রেতা বিক্রেতারা আসেন তাদের সার্বিক নিপত্তা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব কর্মী রয়েছে।
তেঁতুলিয়া নদীর নিরাপত্তা বিষয়ে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্য উপ পরিদর্শক এস আই সহিদুল ইসলাম বলেন, বেপাড়িরা আমাদের জানালে আমারা তাদের নিরাপত্তা দিয়ে পৌঁছে দেই।
বাউফল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই হাটটি থেকে সরকার বছরে দের কোটি টাকার উপরে রাজস্ব পায়। হাটটির সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

Facebook Comments Box