admin
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১০৬ জন

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী রশি শিল্প।

ফটোকার্ড ডাউনলোড করুন
125

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের সরকারী লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পার্শ্বে পায়রা নদীর তীর ঘেঁষে পরিত্যক্ত সরকারি সিএন্ডবি রাস্তার দু’পাশে বসবাস করেন একসময়ের ঐতিহ্যবাহী রশি শিল্পের কারিগররা।
এখন আর আগেকার দিনের মত নেই জমজমাট রশি তৈরির কর্মজজ্ঞ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় কলকারখানার দাপট, মূলধন ও শ্রমিক সংকট এবং পায়রার অব্যাহত ভাঙনে বার বার বসতভিটা স্হানান্তরের কারনে এখানকার নিপুণ হাতে রশি তৈরির কারিগররা বাপ-দাদার পুরানো পেশা ধরে রেখেছে। একসময় শতাধিক পরিবার রশি তৈরির কাজে জড়িত ছিল। কালের আবর্তে বর্তমানে কিছু কিছু কারিগররা প্রতিযোগিতা মূলক পেশায় টিকে থাকতে না পেরে অন্যত্র চলে গেছে অথবা এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রশি শিল্পী এগারোটি পরিবার কাজ করছে এবং চটের ব্যবসায় জড়িত আছে সাতটি পরিবার। রশি প্রস্তুতকারী সেলিম খন্দকার, শাহ আলম হাওলাদার, গোবিন্দ দাস, সুধীর মালাকার, বেবি আক্তার ও প্রতিবন্ধী রামদাসহ এগারটি পরিবার এখনো তাদের এ পুরাতন পেশায় আছেন।
এখানকার একজন বয়স্ক রশি কারিগর জয়নাল গাজী বলেন, পায়রা নদীর ভাঙ্গনে বসত ভিটা হারিয়ে বর্তমানে সরকারি পরিত্যক্ত সিএন্ডবি রাস্তার পাশে এসে ঠাঁই নিয়ে পুঁজির অভাবে কোন রকম টিকে আছি।
অপর এক কারিগর সেলিম খন্দকার বলেন, এখন আর এ পেশায় আগের মত ব্যবসা নাই। রশি তৈরীর কাঁচামাল ক্রয়, মূলধনের অভাব, শ্রমিক সংকট ও আধুনিক মেশিনের কারণে তারা প্রতিযোগিতায় হেরে যাচ্ছেন।
শাহ আলম হাওলাদার জানান, পূর্বে চট্টগ্রাম থেকে রশি তৈরির জন্য পুরান চট ও সাইন জাল কম মূল্যে করে আনা হতো। বর্তমানে ঢাকা থেকে চড়া মূল্যে ক্রয় করতে হচ্ছে।
গোবিন্দ চন্দ্র দাস বলেন, প্রতি কেজি পুরানো চট বর্তমানে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় এবং পুরান সাইন জাল ১৫ থেকে ২০টাকায় ক্রয় করা হয়।যাতায়াত খরচ, শ্রমিক ও প্রস্তুত খরচ বাবদ আরো খরচ হয় ১০ টাকা। প্রতি কেজি রশি বর্তমানে গড়ে পাইকারি বিক্রি করা হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকা।
প্রতিবন্ধী রাম দাস বলেন ৫০ বছর যাবত এ পেশায় আছি। রশি তৈরি করে ৫ ছেলে সহ ৭ জনের পরিবার কোনরকম জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় টিকে আছি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহায়তা পেলে আমরা আবার এ পেশাকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হব।
কালের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত স্হানীয় লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ঐতিহ্যবাহী লেবুখালী পুরান বাজার এলাকার রশি শিল্প একসময় দক্ষিণাঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সমাদর ছিল। বর্তমানে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে হারাতে বসেছে এ শিল্প। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহায়তা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সম্ভাবনাময় এ রশি শিল্প।

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লালমোহনে চালের ডিওতে সমঝোতা বাণিজ্য টনপ্রতি নূন্যতম ৫শ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

অবরোধের ৪০ দিন পার হলেও চাল না পাওয়ায় জেলেদের বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

সন্তানকে চিকিৎসার সহযোগিতার জন্য বাবার আকুতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রকৃতির তা’ণ্ডব শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১৫০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা অনুষ্ঠিত 

লালমোহনে মন্দিরের দান বাক্সের লক্ষাধিক টাকা চুরির অভিযোগ

লালমোহনে তেল না পেয়ে মধ্যরাতে ইউএনওর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ

লালমোহনে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

দক্ষিণ আইচায় নিঃসন্তান বিধবার জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

১০

লালমোহনে স্বামীর স্ট্রোকের খবর শুনে স্ত্রীর মৃত্যু \ স্বামী মেডিকেলে

১১

সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় ২ টি পাক ফ্যান হস্তান্তর করেন নজেকশিস

১২

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিসতা স্বাধীনতা দিবস ফুটভলি চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধন

১৩

নাটোরে টিফিনের সময় বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর

১৪

লক্ষ্মীপুরে জমি বিরোধে সংঘর্ষ: তিনজন আহত, মামলা প্রক্রিয়াধীন

১৫

ইরানের বিরুদ্ধে হারার পথে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র: গবেষণা

১৬

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

১৭

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অডিটের জন্য ৬০০ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করল এনবিআর

১৮

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ওসি তৌহিদুর আনোয়ার, বিদেশি মদসহ ব্যবসায়ী গ্রেফতার

১৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে  বিএসটিআই কর্মকর্তারা

২০