ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে ভুয়া কাগজপত্র ও অনিয়মের অভিযোগ Logo ১০ টাকার সিম নিতে গিয়ে তথ্যের ঝুঁকিতে শত শত গ্রাহক, পঞ্চগড়ে আটক ৩ Logo কুমারখালীতে ফসলি জমি হুমকিতে: পদ্মা নদীর কোল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন Logo প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়তে Ovipray-এর নতুন উদ্যোগ, অনুষ্ঠিত Robotics ও AI কর্মশালা Logo কালিয়াকৈরে বজ্রপাতের পর নৌকা থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু Logo মনপুরায় ১ ইলিশের দাম ১৫ হাজার টাকা। Logo রূপগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ Logo পঞ্চগড়ে পরকীয়ার অভিযোগে স্বামীকে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ, স্ত্রী আটক Logo সাতক্ষীরায় ৫৬ বোতল কোরেক্সসহ দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) Logo হাতিয়াতে ধান খেতে কীটনাশক স্প্রের বিষাক্ত বাষ্পে শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ ১৬ শিক্ষার্থী

ভিটেবাড়ি বিক্রি, এখন সন্তানদের নিয়ে অন্যের বারান্দায় রাজিয়া বেগমের মানবেতর জীবন

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৪৫২

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এক অসহায় পরিবার রাজিয়া বেগম বয়স (৩৫) ৪০উর্দু তার স্বামী মোঃ মোছলেউদ্দিন দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে চরম দুঃসহ ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নেই নিজেদের কোনো জমি, নেই মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর। বাধ্য হয়ে অন্যের ঘরের বারান্দায় সন্তানদের নিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের।
চরফ্যাশন থেকে সহকর্মী তছলিম আখন জানিয়েছেন, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বর্তমানে খোদেজা বাগ ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভুট্টু মিয়ার বসতঘরের পেছনের একটি বারান্দায় সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাত নামলেই সন্তানদের নিয়ে কোথায় মাথা গুঁজবেন সেই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় তাকে। অনেক সময় বিভিন্ন মানুষের কটু কথা সহ্য করেও সামান্য একটু জায়গায় রাত কাটাতে হয় এই পরিবারটিকে।
রাজিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার স্বামী মোছলেউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না তিনি। একসময় তাদের নিজের জমি ও বসতভিটা ছিল। কিন্তু সংসারের অভাব আর স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে বাধ্য হয়ে সেই পৈতৃক ভিটেবাড়ি বিক্রি করে দেন। এরপর থেকেই শুরু হয় তাদের দুর্বিষহ জীবন।
তিনি আরও বলেন, “তার দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটান। নিজের একটা ঘর থাকলে অন্তত সন্তানদের নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারতেন। মানুষের কটু কথা শুনতে হতো না।”
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন, “সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। খুব দ্রুত ঘটনাটি সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। পরিবারটি যদি প্রকৃতপক্ষে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত হয়ে থাকে, তাহলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে তাদের জন্য মানবিক সহায়তার ব্যবস্থাও করার চেষ্টা করা হবে।”
রাজিয়া বেগমের দাবি, অতীতে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও তাদের ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। এখন কোনো উপায় না দেখে সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং প্রবাসীদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, কোনো মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে আবারও হয়তো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন তিনি ও তার পরিবার।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:০০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ২৯৬ বার পড়া হয়েছে
Logo
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

ভিটেবাড়ি বিক্রি, এখন সন্তানদের নিয়ে অন্যের বারান্দায় রাজিয়া বেগমের মানবেতর জীবন

আপডেট সময় : ০৮:২২:০০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
৪৫২

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এক অসহায় পরিবার রাজিয়া বেগম বয়স (৩৫) ৪০উর্দু তার স্বামী মোঃ মোছলেউদ্দিন দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে চরম দুঃসহ ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নেই নিজেদের কোনো জমি, নেই মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর। বাধ্য হয়ে অন্যের ঘরের বারান্দায় সন্তানদের নিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের।
চরফ্যাশন থেকে সহকর্মী তছলিম আখন জানিয়েছেন, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বর্তমানে খোদেজা বাগ ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভুট্টু মিয়ার বসতঘরের পেছনের একটি বারান্দায় সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাত নামলেই সন্তানদের নিয়ে কোথায় মাথা গুঁজবেন সেই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় তাকে। অনেক সময় বিভিন্ন মানুষের কটু কথা সহ্য করেও সামান্য একটু জায়গায় রাত কাটাতে হয় এই পরিবারটিকে।
রাজিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার স্বামী মোছলেউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না তিনি। একসময় তাদের নিজের জমি ও বসতভিটা ছিল। কিন্তু সংসারের অভাব আর স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে বাধ্য হয়ে সেই পৈতৃক ভিটেবাড়ি বিক্রি করে দেন। এরপর থেকেই শুরু হয় তাদের দুর্বিষহ জীবন।
তিনি আরও বলেন, “তার দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটান। নিজের একটা ঘর থাকলে অন্তত সন্তানদের নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারতেন। মানুষের কটু কথা শুনতে হতো না।”
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন, “সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। খুব দ্রুত ঘটনাটি সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। পরিবারটি যদি প্রকৃতপক্ষে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত হয়ে থাকে, তাহলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে তাদের জন্য মানবিক সহায়তার ব্যবস্থাও করার চেষ্টা করা হবে।”
রাজিয়া বেগমের দাবি, অতীতে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও তাদের ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। এখন কোনো উপায় না দেখে সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং প্রবাসীদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, কোনো মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে আবারও হয়তো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন তিনি ও তার পরিবার।

Facebook Comments Box