
ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর কাজীর চরে ফেসবুকে ‘ডাকাতের তালিকা’ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে চর কলাতলী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ হামলায় গুরুতর আহত হন, কাজীর চর ২ নম্বর ওয়ার্ড এর স্থনীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজ এর ছেলে মিজান (৩৫),ইউসুফ (২৯), পিতা হাফিজ উল্লাহ, কাজীর চর ২ নম্বর ওয়ার্ড;মো. তৈয়ব (২৭), পিতা আবদুল শহীদ, কাজীর চর ১ নম্বর ওয়ার্ড।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, “এস কে এস কে মনপুরা” নামে একটি ফেইক ফেসবুক আইডি থেকে প্রায় ২০ জন ডাকাতের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকার ডিজে আলমগীর,
রুবেল ঢাকাত ও স্বপন ডাকাতের নাম উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্বপন ডাকাত ও তার সহযোগীরা এ ঘটনার জন্য স্থানীয় কয়েকজনকে দায়ী করে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত মিজানের অভিযোগ, তালিকা প্রকাশের ঘটনার জেরে স্বপন ডাকাতের নেতৃত্বে রুবেল, মামুন, বাচ্ছু, আল-আমিন, মিজান, মনিরসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি মারধরে তারা তিনজন গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে তৈয়বের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এদিকে ইউসুফ বলেন , স্বপন ডাকাত ২০২১ সাল থেকে কাজীর চর এলাকায় অবস্থান করে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ গড়ে তুলেছে। তিনি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অসহায় মানুষকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আতঙ্কে রাখছেন। কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে গুম ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ।এ বিষয়ে কাজীর চরের ইউপি সদস্য শরীফ মেম্বার জানান, মারামারির সময় আমি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলাম। আমি যাওয়ার পুর্বে দু তিন জন আহত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোক জন সহ পরিস্থিতি নিয়ে আহতদের মনপুরায় চিকিৎসার জন্য পাঠাই।
এ অবস্থায় কাজীর চর এলাকার সাধারণ মানুষ এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তি পেতে চরফ্যাশন-মনপুরার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন–এর কাছে এর পদক্ষেপ দাবী করেছেন
তবে অভিযুক্ত স্বপন মাঝি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঢাকায় ছিলেন। পরে এসে জানতে পারেন “এস কে”এসকে নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তাদের নামে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দুইজন ইমামের নামও রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি নিজের গদি ঘরে ছিলেন এবং মারামারির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে স্পিডবোটে করে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মনজুর মোর্শেদ জানান, কাজীর চর থেকে তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে এখনো এক্স-রে করা সম্ভব হয়নি, তাই তাদের আঘাতের প্রকৃতি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, কাজীর চর এলাকার ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন